দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : জাল বা ছিপ দিয়ে নয়, মাছ ধরেন জলে ডুব দিয়ে। এখানেই শেষ নয়, জলে নামলেই মাছের গতিবিধি তিনি অনুভব করতে পারেন। আবার জলের কোন জায়গায় মাছ রয়েছে সেটাও বুঝতে পারেন তিনি। মাছ ধরার ব্যতিক্রমী এই বিদ্যার কারণে অন্য মৎস্যজীবীদের কাছে যেন ঈর্ষার পাত্র হয়ে উঠেছেন দৃষ্টিহীন নবীন মালাকার। বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের গড়ালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কোনপাকড়ি সরকারপাড়ার বাসিন্দা নবীনবাবু এইভাবেই মাছ ধরে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন বহুবছর ধরে। একদিকে দৃষ্টিহীন, অন্যদিকে সংসারে অনটন থাকলেও কোনো আক্ষেপ নেই। তাঁর বক্তব্য, ভগবান যেভাবে তাঁকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন সেটা নিয়ে তিনি খুশি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, সংসারে আর্থিক অনটন থাকার কারণে দৃষ্টিহীন এই ব্যক্তি সেভাবে লেখাপড়া করে উঠতে পারেননি। তবে যে বিদ্যা তিনি আয়ত্ত করেছেন তা দেখে কুর্নিশ করে এলাকার পাড়াপ্রতিবেশী থেকে শুরু করে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। তাঁদের বক্তব্য, দৃষ্টিহীন হয়ে যেভাবে তিনি মাছ ধরছেন তা কোনো স্বাভাবিক লোকের পক্ষেও সম্ভব নয়। জলে নেমে ডুবসাঁতার দিয়ে ধরে আনছেন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। আর সেটা বাজারে বিক্রি করে সামান্য আয়ে সংসার চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মৎস্যজীবী টপিন কস্য বলেন, বহুবছর ধরেই নবীন মালাকারকে এভাবে মাছ ধরতে দেখে আসছেন। এটা একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার এবং সহজে আয়ত্ত করা যায় না। কেবল মাছ ধরাই নয়, তিনি জলে ডুব দিলেই বুঝে যান জলের কতটা গভীরে মাছ আছে। আর ডুবসাঁতার দিয়ে জলের থেকে খালি হাতে ধরে আনেন রুই, কাতলা ছাড়াও বড়ো ধরনের বাইম, বাউস মাছ।

- Advertisement -

নবীনবাবুর প্রতিবেশী নীলকমল রায় জানান, তিনি ছোটোবেলা থেকেই নবীনবাবুকে কখনও পাঙ্গা নদী আবার কখনও যমুনা নদীতে নেমে ডুব দিয়ে মাছ ধরতে দেখে আসছেন। আবার কখনও কেউ ওই ব্যক্তিকে পুকুরে মাছ ধরতে বললে সেখানেও এভাবেই মাছ ধরে দিয়ে থাকেন। কেবল ডুবসাঁতার দিয়ে মাছ ধরাই নয়, নবীনবাবু যে কোনো টাকার নোট আঙুল দিয়ে মেপে নির্ভুলভাবে বলে দিতে পারেন সেটা কত টাকার নোট। সংসারে দুই ছেলে থাকলেও কেউ তাঁকে দেখে না। স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর সংসার। আর্থিক অনটন থাকলেও নবীনবাবুকে কোনো দিন কারও কাছে হাত পাততে দেখা যায়নি বলে জানান নীলকমল রায়।

নবীনবাবু বলেন, মাছ ধরে তা বিক্রি করে সামান্য আয়ে সংসার চালাই। এতে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। তবে সরকারি প্রকল্পে ঘর পাওয়া গেলে ভালো হত। এই বিষয়ে গড়ালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শাহজাহান আলম বলেন, নবীন মালাকারের বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। তাঁকে সরকারি ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।