দুর্নীতি রুখতে পঞ্চায়েতে স্পেশাল অডিট

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে স্পেশাল অডিট শুরু হচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে নিয়মিত অডিট হয় না বলে অনেক সময়ই অভিযোগ ওঠে। জেলার বহু পঞ্চায়েতেই অডিট বকেয়া রয়েছে। অভিযোগ, ঠিকমতো নজরদারির অভাবে জেলার বিভিন্ন পঞ্চায়েতে বিস্তর আর্থিক গোলমাল চলছে। তাই পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশে জেলার পঞ্চায়েতগুলিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, মধ্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ- এই তিন ক্যাটিগোরিতে ভাগ করে জেলায় অডিট শুরু হচ্ছে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের সভার পরেই পঞ্চায়েতস্তরে অডিটের কাজ শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু জেলায় অডিট অফিসারের সংখ্যা কম থাকায়, সমস্যায় রয়েছে জেলা প্রশাসনও। মাত্র চারজন অডিট অফিসার নিয়ে কীভাবে ৬৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতের অডিট সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে বাড়ছে চিন্তা।

রাজ্য জুড়ে এবারে পঞ্চায়েতস্তরে স্বচ্ছতা আনতে অডিট নিয়মিত করানো বাধ্যতামূলক করতে চাইছে সরকার। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, যে সব গ্রাম পঞ্চায়েতে অডিট হওয়া বাকি আছে, স্পেশাল ড্রাইভ হিসেবে সেই সব জায়গায় অডিটের কাজ হবে। পরিকাঠামোগত সহযোগিতা এবং সমস্ত কাগজপত্র অডিটরের হাতে তুলে দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। এছাড়াও ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত ধরে অডিটের ক্যাটিগোরি হবে। তাতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ এই তিনটি ক্যাটিগোরি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, যেখানে আগে যে পরিমাণ অডিট হয়েছে, সেখানে সেই হিসেবে ক্যাটিগোরি ভাঙা হয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে অডিট না হওয়া পঞ্চায়েত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হবে। এই মাপকাঠি রাজ্য থেকেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত পঞ্চায়েতগুলিতে তিনমাস অন্তর অডিট করাতে হবে। মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত পঞ্চায়েতগুলিতে ছয় মাস অন্তর অডিট করাতে হবে। নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ পঞ্চায়েতগুলিতে বছরে অন্তত একবার অডিট করাতেই হবে। রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশিকায় এমনই বলা রয়েছে।

- Advertisement -

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, লোকসভা ভোটে তৃণমূলের প্রত্যাশিত ফল না হওয়ার পিছনে পঞ্চায়েতস্তরে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছিল। এরপরে দুর্নীতি নিয়ে সরব হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাটমানি ফেরানোর নির্দেশ দেন তিনি। সেই নির্দেশ ঘিরে গ্রামে গ্রামে শোরগোল ছড়ায়। বর্তমানে প্রশান্ত কিশোরের দাওয়াই নিয়ে তৃণমূল চলতে গিয়ে পঞ্চায়েতস্তরে স্বচ্ছতা আনার ব্যাপারে জোর দিচ্ছে বারবার। পঞ্চায়েতস্তরে গোলমালের কারণ হিসেবে আধিকারিকরাও নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, দুর্নীতি ধরার উপায় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষাই যদি না হয়, তাহলে তো সমস্যা দেখা দেবেই। আগামীদিনে অডিটের ওপর ভিত্তি করে পঞ্চায়েতগুলিতে পারফরমেন্স গ্র‌্যান্ট মিলবে। তাই এবার থেকে নিয়মিতভাবে এবং পদ্ধতিগতভাবে অডিট করে ফেলার জন্য ঝাঁপাচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই জেলার উচ্চ, মাঝারি ও নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ পঞ্চায়েতগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ করে ফেলা হয়েছে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের বৈঠকের পরেই অডিটের দিনক্ষণ ঠিক হবে।

তবে এই কাজ করতে গিয়ে অফিসারের সমস্যা রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। জেলায় অভ্যন্তরীণ অডিটের জন্য ব্লকে ব্লকে পঞ্চায়েত অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অডিট অফিসার থাকার কথা। কিন্তু সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে জেলার ৮টি ব্লকের মধ্যে মাত্র চারজন অডিট অফিসার রয়েছেন। জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক গোবিন্দ দত্ত বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরে অডিট শুরু হবে। রাজ্যের বেধে দেওয়া মাপকাঠি ও নির্দেশিকা মেনেই জেলায় সেই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।