রমজান নদীকে দখলমুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগী প্রশাসন

90

কিশনগঞ্জ: কিশনগঞ্জ শহরে রমজান নদীর জবরদখল জমি মুক্তর অভিযান আবার প্রশাসনিকভাবে শুরু হয়েছে। মহকুমাশাসক শাহনওয়্যাজ আহমদ নিয়াজীর নেতৃত্বে বিএলআরও সমীর কুমার আর পুরসভার এক্সকিউটিভ অফিসার দীপক কুমার পুর-অঞ্চলের এক নম্বর ওয়ার্ডের মহিউদ্দিনপুরে একডজনের বেশী রমজান নদীর জমি দখলকারীদের জমি সনাক্ত করেন। এই জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত পাকা দেওয়াল ও বাড়িতে লাল রঙের চিহ্ন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার মহকুমাশাসক জানান, যাঁদের যাদের বাড়ি ও দেয়ালে লাল রঙের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। সেইসব দখলদারদের ১৪ দিনের সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এসময়ের মধ্যে যদি কারও কাছে নিজ জমি সংক্রান্ত কাগজ পত্র থাকে, তবে তা মহকুমাশাসকের দপ্তরে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিন মহকুমাশাসক জানান, এর আগে এধরনের নোটিশ কাউকে দেওয়া হয়নি। আর এরফলে নদীর জমি অবৈধভাবে দখলকারীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। আবার বেশকিছু লাল রঙের চিহ্নিত জমির মালিক জানান, জমি বিক্রেতারা খাতার জমি বলে, তাদেরকে এইজমি রেজিস্ট্রি করে বিক্রি করে।

- Advertisement -

অপরদিকে ঘটনাস্থলে দেখা যায় মহিউদ্দিনপুরে রমজান নদী মাত্র ৫-৬ ফুট নালীর মত মরাখাতে পরিণত হয়েছে। একসময় এই নদীতে বড় বড় ব্যাবসায়িক নৌকা চলাচল করত বলে প্রবীণরা জানিয়েছেন।কেননা মহানন্দা, ডক নদীর সাথে এই নদীর যোগাযোগ ছিল।কিনতু বছরের পর বছর ধরে জমি মাফিয়ারা নানাভাবে নদীর জমি দখল ও বিক্রি করে বলে অভিযোগ নয় সত্য।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জমিতে পাকা বাড়ি, দোকান বাজার গড়ে উঠেছে। প্রথমে ৩৪৩ জনকে নোটিশ পাঠানো হয়। আবার এরমধ্যে ১৫৫ জনকে ফাইনাল নোটিশ দিয়ে, দখল জমিতে নির্মিত ভবনে, দেওয়ালে লাল চিহ্নিত করা হয়েছে। আর যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমির উপযুক্ত কাগজপত্র দেখাতে না পারে, তবে প্রশাসন জোড়করে নদীর সরকারী জমি বুলডোজার চালিয়ে দখলমুক্ত করবে বলে মহকুমা শাসক জানান।

আবার প্রশাসনের নথিপত্র সূত্র জানা গিয়েছে, প্রায় ১২ বছর ধরে নদীর দখলজমি মুক্তর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু নানাকারনে প্রশাসন অসফল হয়। প্ৰথমে ২০০৮ সালে তৎকালীন জেলা শাসক ফারাক আহমদ এই অভিযান শুরু করেন। সেইসময় ৩৪৩ জন অবৈধ জমি দখলদারদের নোটিশ করা হয়। কিন্তু মাঝখানে অভিযান বন্দ হয়ে যায়। আবার ওনার পরে জেলাশাসক পঙ্কজ দীক্ষিত এই চেষ্টা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করেন। কিন্তু উনি সেইসময় বদলি হয়ে যান।

জানা গিয়েছে, প্রসাশন ৩৪৩ জন দখলদারকে জমি ছাড়ার নোটিশ দেয়।আবার এরমধ্যে ৭২ জন এই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে, পাটনার হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে ও স্টে অর্ডার নিয়ে আসেন।বর্তমানে সেই ৭২ জনকে ছেড়ে নতুনভাবে রমজান নদীর জমি দখল মুক্ত অভিযান শুরু হয়েছে। এই দখলকারীদের মধ্য ৪৮ জন একেবারে ভূমিহীন। এই ৪৮ জনকে জেলা প্রশাসন অন্য কোথাও জমি বন্দোবস্ত থাকার জন্যে করবেন।

মহকুমাশাসক জানান, এবার জমি দখল মুক্ত হবেই। আর রমজান নদীকে আগের আদলে ফিরিয়ে আনা হবে। কোন বাধা এলে, বিশেষ আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।