ধূপগুড়ি : ধানের পর এবার বিনা কর্ষণে ভুট্টা চাষ করতে চলেছে কৃষি দপ্তর। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এভাবে ভুট্টা চাষে আগ্রহী করে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার ধূপগুড়ি ব্লকের ভান্ডানিতে ১৫০ জন পুরুষ ও মহিলা কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকরা যাতে কৃষিজমিতে ফসলের মধ্যে পোকামাকড়ের আক্রমণ চিনতে পারেন, সেজন্যও তাঁদের প্রশিক্ষিত করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, এর আগেও ধূপগুড়িতে বিনা কর্ষণে ভুট্টা চাষ করা হয়েছিল। কিন্তু যতটা সাফল্য আশা করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। তবে এবছর ফের বিনা কর্ষণে ভুট্টা চাষের ব্যবস্থা করতে কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা উদ্যোগী হয়েছেন। এদিন কৃষি প্রশিক্ষণে জেলা শস্য সুরক্ষা অধিকর্তা প্রিয়নাথ দাস, ধূপগুড়ি ব্লকের সহকৃষি অধিকর্তা তিলক বর্মন, কোচবিহার জেলার সাতমাইল সতীশ ক্লাবের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -

কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিনা কর্ষণে ভুট্টা চাষে সতীশ ক্লাবের প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করবেন। তাঁদের যন্ত্রপাতির সাহায্যেই প্রদর্শনী ক্ষেত্র হিসেবে ভুট্টা চাষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে কোথায় ওই প্রদর্শনী ক্ষেত্র গড়া হবে তা ঠিক করা হয়নি। কিন্তু ব্লকজুড়ে বেশ কয়েকটি জায়গা বাছাই করা হয়েছে। ওই জমির মালিক তথা কৃষকদের প্রাথমিকভাবে বাছাই করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্লকের একাধিক জায়গায় চাষ করা হবে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, বিনা কর্ষণে চাষ করলে কৃষিশ্রমিকের কম প্রযোজন হয়। তেমনি চিরাচরিত পদ্ধতির থেকে বেশি পরিমাণে ফসল পাওয়া যায়। এর আগে ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় বিনা কর্ষণে ধান চাষ করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকরাও বেশি ফলন পেয়ে লাভবান হয়েছেন।

ধূপগুড়ি ব্লকের সহকৃষি অধিকর্তা তিলক বর্মন বলেন, প্রাথমিকভাবে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। পরবর্তীতে ওই কৃষকদের জমিতেই প্রদর্শনী ক্ষেত্র হবে। একাধিক প্রশিক্ষণ শিবিরের বন্দোবস্ত করা হবে। তাছাড়া, এদিনের শিবিরে কৃষকদের জমিতে ফল আর্মি ওয়ার্ম-এর আক্রমণের বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে। কোনো কৃষক পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং ফলনসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষি প্রযুক্তি সহায়কদের সঙ্গে বা সরাসরি কৃষি দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারেন।