হাতি-মানুষ সংঘাত এড়াতে বসানো হচ্ছে বিশেষ যন্ত্র

195

বিপ্লব দাস, মাদারিহাট: মানুষের সঙ্গে হাতির সংঘাত এড়াতে এলিসেন্স নামে একটি বিশেষ যন্ত্র লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে। আন্তজার্তিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সম্মিলন বা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনসার্ভেশন অফ নেচারের (আইইউসিএন) অর্থানুকূলে ‘সোসাইটি ফর নেচার এন্ড অ্যানিম্যাল প্রোটেকসনশন’ নামে এক সংস্থা এই বিশেষ যন্ত্র লাগানোর কাজ শুরু করেছে।

ডুয়ার্সে মানব-হাতির সংঘাত ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নানান কারণে কখনও হাতি মরছে, কখনও বা মানুষ। হাতির হানা থেকে রক্ষা পায়নি জমির ফসল। কৃষকরা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলিয়েও ঘরে তোলার আগেই সাবাড় করে ফেলছে হাতির দল। এমনকি হাতির ভয়ে বিঘার পর বিঘা জমি নিরুপায় হয়ে ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। খাঁবারের লোভে প্রতিনিয়ত লোকালয়ে হানা দিচ্ছে হাতি। গৃ্হস্থের ঘর ভেঙ্গে তছনছ করে মুখের গ্রাসটুকু কেড়ে নিচ্ছে। এই সংঘাত এড়াতে অভিনব ‘এলিফ্যান্ট ট্র্যাকিং ডিভাইস’ বের করেছে এই সংস্থা। যার মাধ্যমে গ্রামবাসী ও বনকর্মীরা হাতির উপস্থিতি জানতে পারবেন।

- Advertisement -

সংস্থার পক্ষ্যে কৌস্তভ চৌধুরী বলেন ‘জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে হাতি ট্র্যাকিং ডিভাইসের কাজ শুরু করেছি। আমরা এমন একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে গ্রামবাসীরা হাতির উপস্থিতি সর্ম্পকে সতর্কবার্তা পেয়ে যাবেন। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে ২৬টি যন্ত্র তিন থেকে চারটি এলাকায় লাগানো হবে। ইতিমধ্যে গরুমারা জাতীয় উদ্যান এবং মহানন্দা বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যতে ৪০টি যন্ত্র লাগানো হয়েছে। যেখানে যথেষ্ট সুফল পাওয়ায় একই আশাতেই এখানে ব্যবহার করা হবে যন্ত্রটি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিমু সাহা, প্রদ্যুৎ রায় এবং আমি এই তিনজন মিলে এই যন্ত্রটি তৈরি করি। জঙ্গল থেকে গ্রামে ঢোকার মুখে দুটি খুঁটির মধ্যে সৌরচালিত ব্যাটারি দিয়ে দুটি করে মোট চারটি ডিভাইস লাগানো থাকবে। সঙ্গে গ্রামের প্রান্তে লাগানো থাকবে হুটার। সেন্সরের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে হাতি এলে বেজে উঠবে গ্রামে রাখা হুটার। বার্তা যাবে জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামে এবং বনদপ্তরের কাছে। হুটার বেজে উঠলেই সর্তক হবে সকলেই। ফলে রক্ষা পাবে হাতি এবং মানব দুজনেই। জলদাপাড়া সহকারী বন এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষক দেবদর্শন রায় বলেন লোকালয়ে হাতির হানা রুখতে পুরো জঙ্গল ফেন্সিং করা সম্ভব নয়। তবে এই বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে কিছুটা সুফল পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করি।’