ছেলের জন্য ঈশ্বর খুঁজছেন জগন্নাথ

418

তমালিকা দে, শিলিগুড়ি : বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ার জন্য কেউ কাজ দেয় না। মুখ ঘুরিয়ে নেয় সবাই। কাজ না পেয়ে অবশেষে ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে হয়েছে। সংসার চালানোর জন্য ৩৫ বছর ধরে শহরে হামাগুড়ি দিয়ে ভিক্ষে করেন জগন্নাথ রায় (৫৪)। প্রতিদিন সকালে সিটি অটো করে এসে রোজগারের আশায় হামাগুড়ি দিয়ে ঘুরে বেড়ান শহরের বিভিন্ন রাস্তায়। ভিক্ষা করে যতটুকু আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে তাঁর। আট বছর বয়সে কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ জীবনযাপনের ক্ষমতা হারান তিনি। আস্তে আস্তে চলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ার জন্য স্কুলেও আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি তাঁর। প্রথমে ফুলবাড়ির আশপাশে হামাগুড়ি দিয়ে ভিক্ষে করলেও একদিন হামাগুড়ি দিয়ে চলে আসেন শিলিগুড়িতে। তারপর থেকে দশ বছর ধরে শহরে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষে করাই পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর। অনেকেই তাঁর এই করুণ অবস্থা দেখে এগিয়ে এসে হাতে তুলে দেন পাঁচ, দশ টাকা। আবার অনেকে মুখ ঘুরিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যান। আর্থিক অভাব থাকায় রোদ, ঝড়, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে একইরকমভাবে মানুষের কাছে হাত পেতেছেন তিনি। হামাগুড়ি দিয়ে ভিক্ষা করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁর হাঁটু ও পায়ের আঙুল। তবুও সংসার চালানোর জন্য একদিনও থেমে থাকেন না তিনি। তাঁর কথায়,কলেরা আমার সুস্থ জীবনয়াপন কেড়ে নিয়েছে। অনেকের কাছে কাজের জন্য হাত পেতেছি কিন্তু বিশেষভাবে সক্ষম দেখে কেউ কাজে রাখেননি। অগত্যা আমাকে ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে হয়েছে। বাড়িতে স্ত্রী অসুস্থ ও ছেলে স্কুলে পড়ে। আমি একাই আয় করি। অনেকেই আমার অবস্থা দেখে সাধ্যমতো সাহায্য করেন। অনেক মানুষ মুখ ঘুরিয়ে চলে যান। আমি জানি মানুষই ঈশ্বর, মানুষের ওপর বিশ্বাস হারালে চলে না। ধৈর্য রাখতে হয়।