ভাষাহীনদের পথ দেখাচ্ছেন ফালাকাটার অরিন্দম

147

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : ফালাকাটা থেকে প্রথম শ্রবণ প্রতিবন্ধী যুবক উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি লাভ করেছেন। ফালাকাটা শহরের বিদ্যাসাগরপল্লির বাসিন্দা অরিন্দম দত্ত রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরশিক্ষা বিভাগে ৬৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে স্নাতকোত্তর পাশ করেছেন। তাঁর এই সাফল্যে বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থী মহলে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে। অরিন্দম পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খগেনহাট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন পরিচালিত একটি স্কুলে পড়ান। তাঁর সামান্য বেতনেই বৃদ্ধ বাবা, মায়ের সংসার চলছে। তাই বিশেষভাবে সক্ষম এই যুবকের লড়াইয়ে কাহিনী সাধারণ মানুষকেও অনুপ্রাণিত করছে। বাকি শিক্ষার্থীদের কাছেও অরিন্দম এখন মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাই ছেলের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে এখন আর আক্ষেপ নেই বাবা, মায়ের। তাঁরা শুধু ছেলের একটি সরকারি চাকরির আবেদন জানিয়েছেন।

ফালাকাটা শহরের মাদারি রোডের পাশে বিদ্যাসাগরপল্লিতে বাড়ি অরিন্দমের। তাঁর বাবা চিত্তরঞ্জন দত্ত এক সময় ছোটখাটো ব্যবসা করতেন। মা রত্না দত্ত গৃহবধূ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অরিন্দম জন্মসূত্রেই মূকবধির। তাই ছোট থেকেই অরিন্দমকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন মা, বাবা। আট বছর মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে একটি বিশেষ স্কুলে অরিন্দমের প্রাথমিকস্তরে পড়াশোনা হয়। তারপর ফালাকাটা হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও ফালাকাটা কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন। শ্রবণ প্রতিবন্ধী হওয়ায় বহু বাধার সম্মুখীনও হতে হয় তাঁকে। তবে এজন্য স্কুল, কলেজের শিক্ষক ও পরিবারের লোকজন সব সময় তাঁকে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। এক্ষেত্রে তাঁকে আরও বেশি উৎসাহিত করেন বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের নিয়ে কাজ করা খগেনহাট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের কর্ণধার তথা সমাজকর্মী লক্ষ্মীকান্ত রায়। এভাবে সবার উৎসাহ পেয়ে দূরশিক্ষা বিভাগে এমএ পড়ার জন্য অরিন্দম ভর্তি হন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ পড়ার পাশাপাশি তিনি লক্ষ্মীকান্তবাবুর স্কুলে শিক্ষক হিসেবেও কাজ শুরু করেন। সম্প্রতি রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা বিভাগের এমএর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে যে, অরিন্দম এমএ-তে ৬৮ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যে পরিজনদের পাশাপাশি এলাকার সবাই খুশি।

- Advertisement -

 অরিন্দমের মা রত্নাদেবী বলেন, ছেলের সামান্য রোজগারে সংসার চলছে। স্বামী অসুস্থ। ব্যবসাও বন্ধ। ছেলের ভরসায় এখন আমরা বেঁচে আছি। ছেলের যেন সরকারি চাকরি হয়, এখন সেটাই প্রার্থনা করছি। আকারে-ইঙ্গিতে অরিন্দম বলেন, বাবা, মাকে সুখে রাখতে চাই। এজন্য আমি আরও পরিশ্রম করতে প্রস্তুত। তাঁর এই অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কুর্নিশ জানিয়েছেন ফালাকাটার মানুষ। লক্ষ্মীকান্ত রায় বলেন, ফালাকাটায় শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের মধ্যে সম্ভবত অরিন্দমই প্রথম উচ্চশিক্ষার ডিগ্রিলাভ করলেন। পড়াশোনার প্রতি তাঁর দারুণ ঝোঁক রয়েছে। অরিন্দমের সাফল্যে বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত।