ইচ্ছাশক্তিতে বাজিমাত বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের

199

জলপাইগুড়ি : এদের কেউ চোখে দেখতে পায় না, কেউ বা কথা বলতে পারে না, কিংবা শুনতে পায় না- কিন্তু তা বলে তারা জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেই। অদম্য ইচ্ছেশক্তির জোরে তারা তাদের নিজেদের ভালো লাগার বিষয়ে দিনের পর দিন সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে। চোখে দেখতে না পেলেও, প্রশস্তি পাল হারমোনিয়াম বাজিয়ে নির্দ্ধিধায় গান গেয়ে চলেছে। আবার তৃষা চৌধুরী কথা বলতে বা কানে শুনতে না পেলেও রবি ঠাকুরের গানের সঙ্গে নাচ করে দর্শকদের মন জয় করে নিচ্ছে। করোনাকালে বিশেষভাবে সক্ষম স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে জলপাইগুড়ি সমগ্র শিক্ষা মিশনের তরফে আয়োজিত মূর্তি-ডায়না ভার্চুয়াল উত্সবে এই রকম একাধিক নিদর্শন উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন উদ্যোগের পরে সম্প্রতি ওই সব ছাত্রছাত্রীদের করা নাচ-গান, কবিতা, বাদ্যযন্ত্রের উপস্থাপনা অডিও-ভিজুয়াল আকারে প্রকাশ করা হল। বৃহস্পতিবার সমগ্র শিক্ষা মিশনের কনফারেন্স হলে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ওই অডিও-ভিজুয়াল প্রকাশ করেন জলপাইগুড়ি জেলা শিক্ষা আধিকারিক মানবেন্দ্র ঘোষ।

সেই সঙ্গে ওই অডিও-ভিজুয়াল ইউটিউবেও আপলোড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মানবেন্দ্র ঘোষ। তিনি বলেন, করোনা আবহের কারণে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেহেতু ছাত্রছাত্রীরা বাড়িতেই রয়েছে, সেই কারণে আমরা অনলাইনকে ব্যবহার করে সমগ্র শিক্ষা মিশনের মধ্যে দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক, সৃজনশীলতা এবং বুদ্ধির বিকাশের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলাম। যার মধ্যে জলঢাকা উৎসব এবং বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক মূর্তি-ডায়না উত্সব ছিল। পুরো বিষয়টি অনলাইনের মাধ্যমে করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের নাচ-গান, আবৃত্তি, আঁকা সমস্ত কিছু মোবাইলে রেকর্ড করে আমদের নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়েছে। তবে যারা পারেনি, তাদের বাড়িতে আমাদের স্পেশাল এডুকেটরেরা গিয়ে রেকর্ডিং করে নিয়ে আসেন। আমি নিজেও গিয়েছি। সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত চলা এই উৎসবে জেলা থেকে প্রায় ২০০ জনের বেশি বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্রছাত্রীরা অংশ নিয়েছে। এদের প্রত্যেকে আমরা পুরস্কৃত করব। তবে এখন দেখে মনে হচ্ছে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই উৎসব করা হয়ে ছিল তাতে আমরা অনেকটাই সফল।

- Advertisement -

অডিও-ভিজুয়ালে মালবাজারের সুভাষিণী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রশস্তি পালের হারমোনিয়াম বাজিয়ে গানের প্রদর্শন তুলে ধরা হয়েছে। প্রশস্তি চোখে দেখতে পারে না। কিন্তু তার পরেও হারমোনিয়াম বাজানোয় সে সাবলীল। প্রশস্তির মা রিনা পাল জানান, মেয়ে ছোটবেলা থেকেই চোখে দেখতে পারে না। কিন্তু ও শুনে শুনে গান গাইতে পারত। এর পরে ওকে গান শেখানো শুরু করি। হারমোনিয়াম যাতে বাজাতে পারে সে জন্য নির্দিষ্ট স্কেলের রিডের ওপরে সেলোটেপ লাগিয়ে দিয়েছিলাম। জলপাইগুড়ি শহরের জেলা স্কুলের ছাত্র প্রত্যুষ ভট্টাচার্য। প্রতু্য়ষের মা তাপসী ভট্টাচার্য বলেন, ছেলের শ্রবণ শক্তি নেই। কিন্তু তার পরেও তবলা শিখছে। ও ব্যাডমিন্টন খেলায় বিশেষভাবে সক্ষমদের নিয়ে জাতীয়স্তরের প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হয়েছে। জলপাইগুড়ি শহরের ভবেশচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী তৃষা চৌধুরী। ছোটবেলা থেকেই সে কথা বলা এবং কানে শোনার ক্ষেত্রে অক্ষম। কিন্তু তার পরেও সে নাচে সাবলীল। ইচ্ছেশক্তি তাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।