স্বেচ্ছাবসরে যেতে পারেন শোভন-বৈশাখী

180
ছবিঃ সংগৃহীত।

কলকাতা: শোভন চট্টোপাধ্যায়, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেবশ্রী রায়। এই তিনজনেরই রাজনীতির কাহিনীতে বারবার নতুন নতুন বাঁক আসছে। এরা সবাই একসময় তৃণমূলেই ছিলেন। শোভনবাবু দাবি করেন, তাঁর কল্যাণেই দেবশ্রী পরপর দুবার রায়দিঘি থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন। আবার শোভন-বৈশাখীর আপত্তিতে একই দিনে দিল্লিতে বিজেপি সদর দপ্তরে হাজির হয়ে যোগ দিতে পারেননি দেবশ্রী। এবার শোভন-বৈশাখী বিজেপি ছাড়লেন। আর একইসঙ্গে তণমূল ছাড়লেন দেবশ্রী। বৈশাখী দাবি করেছেন, তাঁরা আর রাজনীতিই করবেন না। তবে দেবশ্রী কিন্তু রাজনীতি ছাড়ার কথা ভাবেননি। বরং তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়া সময়ে অপেক্ষা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সূত্রের খবর, বেহালা পূর্ব থেকে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে মুখের মতো জবাব দিতে শোভন চেয়েছিলেন বৈশাখীকেই প্রার্থী করুক বিজেপি। কিন্তু শোভন বা বৈশাখী কাউকেই প্রার্থী পদের জন্য বিবেচনাই করেনি দল। দলীয় প্রচারে নামার পরও বারবার রত্না ও দেবশ্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে জড়িয়ে পড়েছেন শোভন-বৈশাখী। তাঁদের বিরুদ্ধে দলের অন্দরে এরকম অভিযোগ বারবার তৈরি হয়েছে। তাঁদের এই ব্যক্তিগত ঝগড়ায় বিজেপির ভাবমূর্তি ক্ষতি হয়েছে বলেই দলীয় নেতাদের ধারণা। তাই প্রথম থেকেই বেহালা পূর্ব আসনের বদলে অন্য আসনে লড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় শোভনকে। কিন্তু শোভন তাতে রাজি হননি। বৈশাখী অবশ্য নিজের প্রার্থীপদের বিষয়টি সামনে আনেননি। তিনি বলেছেন, বেহালা পূর্ব কেন্দ্রে শোভনকে প্রার্থী না করা তাঁর পক্ষে যথেষ্ট অসম্মানজনক। এটা মানা যায় না। ইতিমধ্যেই শোভন-বৈশাখী তাঁদের ইস্তফাপত্র দলের নেতাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

- Advertisement -

সোমবার সন্ধ্যায় বৈশাখী বলেন, আমাদের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্ব আর যোগাযোগ করেননি। আমরাও আর বিজেপিতে থাকতে আগ্রহী নই। তবে কি আপনারা দলবদল করছেন? সোজাসাপটা না জানিয়ে বৈশাখী বলেন, আমরা রাজনীতিই ছেড়ে দেব। এই ধরনের অসম্মান আর মানা যাচ্ছে না। যদিও বিজেপির তরফে তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি।