শিলিগুড়িতে প্রার্থী নিয়ে জল্পনা তৃণমূলে

ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : আগামী বিধানসভা ভোটে শিলিগুড়িতে সিপিএমের অশোক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে দলের জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার, এসজেডিএর ভাইস চেয়ারম্যান নান্টু পাল ও চিকিৎসক সন্দীপ সেনগুপ্ত। এই নিয়ে এখন জোর জল্পনা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। তবে পুরোটাই নির্ভর করবে দলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা পিকে (প্রশান্ত কিশোর)-র রিপোর্টের ওপর।

অশোকবাবুর মতো সিপিএমের হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এমন মুখ তৃণমূল তুলে ধরতে চাইছে যাঁর বিরুদ্ধে শহরের তেমন কোনও অভিযোগ নেই। সেই দিক দিয়ে এবার অরাজনৈতিক প্রার্থীর চাইতে স্বচ্ছ রাজনৈতিক মুখকে প্রার্থী করতে চাইলেও চিকিৎসক সন্দীপ সেনগুপ্তের নামও হাওয়ায় ভাসছে। সন্দীপবাবু কোভিড মোকাবিলায় মার্চ মাস থেকে কাজ করে চলেছেন। বিভিন্ন জায়গায় কোভিড সচেতনতায় মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন, সেই কারণে ইতিমধ্যেই শহরে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে। সেই পরিচিতিকেই কাজে লাগাতে চাইছে তৃণমূল। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবকে একটা মহল সরাসরি অশোকবাবুর বিরুদ্ধে প্রার্থী করার জন্য সওয়াল করলেও পিকের রিপোর্ট অন্য কথা বলছে। আইপ্যাক-এর ধারণা, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে বর্তমানে বিজেপি যেভাবে ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে তাতে গৌতম দেবকে ওই আসনে প্রার্থী না করলে হার নিশ্চিত। সেই কারণে গৌতমবাবুকে তাঁর পুরোনো আসনেই প্রার্থী করা হবে বলে প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে।

- Advertisement -

একমাত্র ২০১১ সালে শিলিগুড়িতে ডাঃ রুদ্রনাথ ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করে অশোক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু তার পরেরবার ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী বাইচুং ভুটিয়াকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে ফের শিলিগুড়ির বিধায়ক হন অশোকবাবু। শুধু তাই নয়, অশোকবাবুর ক্যারিশমাতেই একে একে শিলিগুড়ি পুরনিগম, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ ভোটে জয়ে ধারা বজায় রাখে সিপিএম। শুধু শিলিগুড়ি মহকুমা নয়, গোটা দার্জিলিং জেলাতেই তৃণমূল কোনও বিধানসভা আসন জিততে পারেনি। সেই কারণে এবার খুব হিসাব কষেই বিধানসভা আসনগুলিতে প্রার্থী নির্বাচন করতে চাইছে রাজ্যের শাসকদল। সেক্ষেত্রে নান্টু পালের নাম যেমন প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছে তেমনই রঞ্জন সরকারের নামও রয়েছে। তাঁদের পাশাপাশি চিকিৎসক সন্দীপ সেনগুপ্তকেও চাইছে একটা মহল। রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন, দলের নেতাদের মধ্যেই যদি কাউকে তৃণমূল প্রার্থী করে তবে নান্টু পাল কিংবা রঞ্জন সরকারের মধ্যে কাউকে প্রার্থী করলে ভালো ফলের আশা করতে পারে।

গত পুরভোটের আগে দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়িতে প্রচারে এসে দলীয় নেতাদের জানিয়ে দিয়েছিলেন, শিলিগুড়িতে আমরা জয় দেখতে চাই। কিন্তু বাস্তবে জয় তো দূরের কথা, শিলিগুড়ি বিধানসভা, পুরনিগম ও মহকুমা পরিষদ- তিনটি ভোটেই গোহারা হেরেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এনিয়ে শিলিগুড়ির নেতারা কলকাতায় গেলে তাঁদের এখনও কথা শুনতে হয়। তাই এবার যাতে অন্তত শিলিগুড়ি দখল করা যায় সেই ব্যাপারে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তৃণমূল। কারণ তৃণমূল জানে, বিধানসভা আসনটি যদি তারা দখল করতে পারে, তার প্রভাব পড়বে পুরভোট ও মহকুমা পরিষদ ভোটে। কারণ বিধানসভা দখল করা গেলে পুরভোট ও মহকুমা পরিষদ ভোটের প্রচার অনেকটাই তাদের কাছে সহজ হবে। রঞ্জন সরকার বলেন, প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে এখনও কিছু ঠিক হয়নি। তবে বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে মহকুমাজুড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শিলিগুড়ির মানুষ এবার আমাদেরই সমর্থন জানাবেন, এই ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অশোক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, এখন আমরা ঠিক করছি, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হলে কোন আসনে কারা প্রার্থী হবেন। মূলত বিধানসভা ভোটকেই পাখির চোখ করে আমরা এগোচ্ছি।