জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি, ৮ জুলাই : জলপাইগুড়ি জেলায় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য মন্ত্রীসভায় উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। সূত্রের খবর, এই সুবাদে আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীকে মন্ত্রীপদে দেখা যেতে পারে। সৌরভবাবু বর্তমানে দলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি পদে রয়েছেন। তিনি মন্ত্রী হলে জেলা সভাপতি পদে নতুন কাউকে নিয়ে আসা হবে। এক্ষেত্রে দল অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেবে। এই সুবাদে দল এই পদে জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সহকারী সভাধিপতি তথা তণমূলের কৃষক ফ্রন্টের জেলা সভাপতি দুলাল দেবনাথ, প্রাক্তন দুই জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী ও চন্দন ভৌমিক এবং জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায়কে বেছে নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক গৌতম দেব বর্তমানে পর্যটনমন্ত্রীর পদে রয়েছেন। প্রতিবেশী জেলার সভাপতি হিসেবে গৌতমবাবু অবশ্য মূলত দার্জিলিংয়েরই প্রতিনিধিত্ব করেন। খাতায়-কলমে তিনি রাজ্য মন্ত্রীসভায় জলপাইগুড়ির প্রতিনিধিত্ব করলেও মন্ত্রীসভায় আলিপুরদুযার জেলার কোনো প্রতিনিধিই নেই। রাজ্য মন্ত্রীসভার সূচনাপর্বে আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রামের বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার জেমস কুজুর আদিবাসী কল্যাণ দপ্তরের পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কুমারগ্রাম এলাকায় ভোটের ফল খারাপ হওয়ায় তাঁকে মন্ত্রীসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কালচিনির তৃণমূল বিধায়ক উইলসন চম্প্রমারি বিজেপি শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচন। রাজনৈতিক দিক থেকে এই জেলা শাসকদলের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টিকে মাথায় রেখে তৃণমূল নেতৃত্ব সৌরভ চক্রবর্তীকে মন্ত্রীসভায় ঠাঁই দিতে পারেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গিয়েছে। সৌরভবাবু এক সময় আলিপুরদুয়ারের পাশাপাশি যৌথভাবে জলপাইগুড়ির দলীয় সভাপতির পদ সামলেছেন। বর্তমানে তিনি জলপাইগুড়ি জেলার সভাপতি।

সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনে শোচনীয় ফলাফলের পর কৃষ্ণকুমার কল্যাণীরা নতুন জেলা সভাপতির দাবি জানান। তৃণমূলের জলপাইগুড়ির পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাস হালেই জেলার সাংগঠনিক অবস্থা পর্যলোচনা করেছেন। সূত্রের খবর, সৌরভবাবুকে রাজ্য মন্ত্রীসভায় বন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, দল উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কাজে সন্তুষ্ট নয়। বন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী না হলে সৌরভবাবুকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ২১ জুলাই কলকাতায় দলের শহিদ স্মরণ সমাবেশ অনুষ্ঠান রয়েছে। সেখানে সমাবেশের মঞ্চ থেকে সাংগঠনিকস্তরের পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হতে পারে। সম্ভাব্য মন্ত্রিত্ব নিয়ে রবিবার সৌরভবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

অন্যদিকে, জলপাইগুড়ির নতুন জেলা সভাপতি হিসেবে দুলাল দেবনাথ, কৃষ্ণকুমার কল্যাণী, চন্দন ভৌমিক ও সৈকত চট্টোপাধ্যাযে মধ্যে দল কাউকে বেছে নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দলের রাজ্য নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ দুলালবাবু সৌরভ চক্রবর্তীর অনুগামীও বটে। কৃষ্ণকুমার কল্যাণী জলপাইগুড়িতে দলের বহু পুরোনো সাংগঠনিক যোদ্ধা। জেলা সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। ফের তাঁকে জেলা সভাপতির পদে বসাতে দলের একাংশে দাবি রয়েছে। চন্দন ভৌমিক অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। মন্ত্রী গৌতম দেবের অনুগামী চন্দনবাবুর কুমারগ্রাম থেকে ডাবগ্রাম, সর্বত্রই পরিচিতি রয়েছে। জেলা সভাপতি হিসাবে চন্দন ভৌমিকের নাম নিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে, জেলার তৃণমূল যুবর কর্মীরা সৈকত চট্টোপাধ্যায়কে দলের জেলা সভাপতি পদে দেখতে চান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সৈকতবাবু জেলা সভাপতির পদে আসতে পারেন বলে কর্মী-সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন।