বেপরোয়া মোটরবাইক শাসনে বীরপাড়ায় ভরসা ‘স্পীড ব্রেকার’ 

187

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া: পুলিশ নজরদারি চালায় মূল রাস্তায়! শাখা রাস্তা, অলিগলিতে বেপরোয়া মোটরবাইক চালকদের রুখবে কে? তার ওপর, মোটরবাইক চালকদের একটা বড় অংশই কমবয়সী, এমনকি কেউ কেউ স্কুল পড়ুয়া। অগত্যা ভরসা স্পীড ব্রেকার! আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ার অলিতে গলিতে এখন মোটরবাইক আরোহীদের ত্রাস থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসী নির্ভর করছেন স্পীড ব্রেকারের ওপর। বীরপাড়ার বেশ কিছু গলিতে এখন কুড়ি পঁচিশ মিটার পরপর বাম্প দেখা যায়! গ্রামপঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, স্পীড ব্রেকার না দিলে লাগাতার দুর্ঘটনা ঘটবে।

বীরপাড়ার নয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে জুবিলি ক্লাবের দিকে যাওয়া রাস্তাটির দু’শো মিটারের মধ্যে রয়েছে আটটি স্পীড ব্রেকার। রবীন্দ্রনগরের একমাথা থেকে আরেক মাথা যেতে কমবেশি তিনশো  মিটার রাস্তায় রয়েছে তেরটি স্পীড ব্রেকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুভাষপল্লীতে ২৪ টি, দেবীগড়ে ১৩ টি স্পীড ব্রেকার রয়েছে। দুর্ঘটনা রুখতে দেবীগড়ের নয়া রাস্তায় স্পীড ব্রেকারগুলি প্রথমে এতটাই উঁচু করা হয় যে যানবাহনের যন্ত্রাংশ বাম্পের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। পরে স্পীড ব্রেকারগুলিকে মেরামত করে কিছুটা নিচু করা হয়।  বীরপাড়া ১ নং গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান রমেশ মন্ডল বলেন, “স্পীড ব্রেকার তৈরি না করলে দুর্ঘটনা ঘটবে। কারণ কমবয়সী ছেলেরা বাইক পেলেই ঝড়ের গতিতে চালায়। অভিভাবকদেরও বিষয়টিতে নজর রাখা দরকার।’

- Advertisement -

বীরপাড়ায় দিনদিন বাড়ছে কমবয়সী মোটরবাইক চালকের সংখ্যা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুল পড়ুয়াদেরও অনেকেই মোটরবাইক নিয়ে অলিগলি, রাস্তা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের দাপট মূলত দেখা যায় বিকেলের পর। গলিপথে স্পীড ব্রেকার তৈরি করে দুর্ঘটনা রোখা সম্ভব হলেও এতে ভীষণ সমস্যায় ভুগছেন বয়স্ক ও অসুস্থ লোকজন। অনেকেই স্পীড ব্রেকারের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় যানবাহনের ঝাঁকুনিতে দিনের পর দিন যন্ত্রণা সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছেন। রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা সঞ্জয় জৈন বলেন, ‘ছোটো ছোটো ছেলেদের হাতে মোটরবাইক তুলে দিচ্ছেন অভিভাবকরা। এরা মোটরবাইক পেলেই দুরন্ত গতিতে ছুটে যাচ্ছে। এদের রুখতে রাস্তায় স্পীড ব্রেকার তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু এতে অন্যান্যদের অসুবিধে হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা  রোগী বাম্পের ঝাঁকুনিতে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।’

বীরপাড়ার ট্রাফিক ওসি সিজান মোচারি বলেন, ‘পুলিশ মূল রাস্তায় নজরদারি চালাচ্ছে। লাগাতার নজরদারির জেরে বেপরোয়া মোটরবাইকের দাপট অনেকটাই কমেছে। তবে, কমবয়সীদের হাতে অভিভাবকদের মোটরবাইক তুলে দেওয়া উচিৎ নয়। এর ফল ভয়াবহ হতে পারে।’