আলিপুরদুয়ার : প্রায় ১৭ মাস আগে শুরু হয়েছিল আলিপুরদুয়ার পুরসভা এলাকায় জলপ্রকল্পের কাজ। কিন্তু অভিযোগ, এতদিনে এই প্রকল্পে শুধুমাত্র একটি রিজার্ভার তৈরি ছাড়া কোনো কাজই এগোয়নি। জলপ্রকল্পের কাজের সূচনার সময় বলা হয়েছিল, আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করা হবে। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতিতে কাজ এগোচ্ছে, তাতে নির্দিষ্ট সময়ে তো নয়ই, কবে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে, তা নিয়ে চিন্তিত শহরের বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে জলপ্রকল্প নিয়ে সবচেয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল। সামনেই পুরসভার ভোট। তার আগে সিকিভাগও জলপ্রকল্পের কাজ শেষ না হলে যে তাঁদের মুখ পুড়বে, তা বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন শাসকদলের নেতারা। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে অস্ত্রে শান দেওয়া শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি। তাই শাসকদলের নেতারাও এখন জলপ্রকল্পের কাজ শেষ করতে পুর প্রশাসকের উপর চাপ দিচ্ছেন। কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন পুর প্রশাসক।

বর্তমানে আলিপুরদুয়ার পুরসভায় ২০টি ওয়ার্ড আছে। এর মধ্যে কেবলমাত্র ২, ১৯, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে পিএইচইর পানীয় জলের ব্যবস্থা আছে। বাকি ১৭টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পিএইচইর জল থেকে বঞ্চিত। কয়েকটি ওয়ার্ডে জলের পাইপ থাকলেও সেখানে জল মেলে না বলে অভিযোগ। আবার পুরসভার এমন কিছু ওয়ার্ড আছে যেখানে কোনোকালেই পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা ছিল না। পুরসভার বাসিন্দারা তাই বাধ্য হয়ে টিউবওয়েলের জল পান করছেন। এই জল পান করার ফলে প্রতিটি ওয়ার্ডেই বাসিন্দারা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। বিশেষ করে অপ্ররিস্রুত জল পান করায় বাসিন্দারা পেটের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। তাই স্থানীয় বাসিন্দা সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, পুর এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করুক পুরসভা। পুরসভায় ক্ষমতা বদল হলেও পানীয় জলপ্রকল্পের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে গিয়েছে বলে পুরসভার লক্ষাধিক বাসিন্দার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

পুরসভায় প্রশাসক বসার আগে ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল। প্রায় দেড় বছর আগে পুরসভায় তৃণমূলের বোর্ড থাকার সময় আলিপুরদুয়ারে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেবার জন্য রাজ্য থেকে অর্থ মঞ্জুর করা হয়। এই প্রকল্পের জন্য পুর দপ্তর প্রায় ১০২ কোটি টাকা মঞ্জুর করে। এছাড়াও জল পরিশোধনকেন্দ্র গড়ার জন্য পুরসভা আলাদা করে তাদের নিজস্ব ফান্ড থেকে ৮০ লক্ষ টাকা খরচ করে একটি জায়গা কেনে। পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নোনাই নদীর ধারে ওই জমি কেনা হয়েছে। গত ১৭ মাস আগে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পে মাত্র একটি রিজার্ভার তৈরি হয়েছে। আর কোনো কাজ এগোয়নি। জলপ্রকল্পের বিষয়ে পুরসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা সিপিএমের অনিন্দ্য ভৌমিক বলেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে ভোট টানতে ওই পানীয় জলপ্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু এতদিনেও ওই কাজ তেমন এগোয়নি। সামনের পুরসভা ভোটের দিকে লক্ষ্য রেখে এখন আবার ওই প্রকল্প নিয়ে তোড়জোড় শুরু করছে শাসকদল।তবে আমাদের দাবি, পুরবাসীর কথা মাথায় রেখে জলপ্রকল্পের কাজ করুক পুরসভা।

পুরসভার বিদায়ি তৃণমূল বোর্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার টাউন ব্লক সভাপতি দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের বোর্ডের আমলেই পানীয় জলপ্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। তবে যে গতিতে কাজ হচ্ছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। তাই জলপ্রকল্পের কাজ যাতে গতি বাড়িয়ে সময়ে শেষ করা হয়, সেই দাবি আমরা পুরসভার প্রশাসকের কাছে রাখব। এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রশাসক কৃষ্ণাভ ঘোষ বলেন, মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট পানীয় জলপ্রকল্পটির কাজটি করছে। ইতিমধ্যেই একটি রিজার্ভার তৈরি হয়েছে। পাইপলাইন বাসানোর কাজের জন্য টেন্ডারও ডাকা হয়েছে। ওই কাজও দ্রুত শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন পুরসভার প্রশাসক।