সেমিফাইনালে স্পিনাজোলার না থাকা বড় ধাক্কা

অর্ণব মণ্ডল : ইউরো কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। মুখোমুখি টুর্নামেন্টের দুই ফেভারিট দল বেলজিয়াম-ইতালি। এমন হাইভোল্টেজ ম্যয়াচ থেকে যেমনটা প্রত্যাশা থাকে, তেমনটাই উপহার দিল দুদলের ফুটবলাররা।

ট্যাকটিকাল একঘেয়েমি নয়, বরং অনেক বেশি ওপেন ফুটবল দেখতে পেলাম ম্যাচটায়। যার জন্য খেলাটা এতটা দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। আসলে দুটো টিমের ফুটবলাররা একই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। কোনও পক্ষই ম্যাচটাকে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে নিয়ে যেতে চায়নি। বরং চেষ্টা ছিল ৯০ মিনিটে ম্যাচের ফয়সালা করার।

- Advertisement -

আর সেই লড়াইয়ে দিনের শেষে যোগ্য দল হিসেবে জিতেছে ইতালি। টুর্নামেন্টের প্রথম থেকে একটা স্ট্র‌্যান্টার্ড ফুটবল উপহার দিয়ে চলেছে আজুরিরা। বেলজিয়াম ম্যাচেও সেই ধারা বজায় রাখতে দেখলাম ইতালিকে। বেলজিয়াম তাদের সেরা ফুটবল উপহার দিয়েছে কিন্তু সেটা ইতালিকে থামানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

ইউরো কাপ যত শেষের দিকে এগোচ্ছে তত আমাকে মুগ্ধ করছে আজুরিরা। এর পিছনে প্রধান কৃতিত্ব কোচ রবার্তো মানচিনির। দক্ষ শিল্পীর মতো দলটাকে একসুতোয় বেঁধেছেন। প্রতিটি ফুটবলার তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। আসলে একটা দলকে নতুন করে গড়ে তুলতে গেলে গতানুগতিক পুরোনো ধারনাকে বিসর্জন দিতে হয়। ম্যানচিনি সেই সাহস দেখিয়েছেন। দেশের স্বার্থে নতুন চিন্তাধারা গ্রহণ করেছেন। এই কাজে তাঁর সাপোর্টিং স্টাফেদের ভূমিকাও অনস্বীকার‌্য। সবচেয়ে বড় কথা অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিঁশেলে দারুণ একটা দল গড়েছেন। যেটা ৫১ বছর পর ইতালিকে ইউরো জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ইতালির দুটো গোল ম্যাচের সেরা প্রাপ্তি। প্রথমটি নিখুঁত বোঝাপড়ার ফসল। আর পরেরটি লরেঞ্জো ইনসিগনের একক মুন্সিয়ানার পুরস্কার। বারেলার গোলের সময় বেলজিয়ামের রক্ষণভাগের ফুটবলারদের মনঃসংযোগ নড়ে গিয়েছিল। সেটা সাময়িক। নিকোলো বারেলা সেই ফাঁকে কাজের কাজ করে চলে গিয়েছে। কয়েক সেকেন্ডের ভগ্নাংশে সামান্য জায়গার মধ্যে ওই ফিনিশিং এক কথায় অসাধারণ। যার ইনসিগনের গোল অনিন্দ্যসুন্দর। গোটা টুর্নামেন্টে ও অনবদ্য ফুটবল খেলছে। শর্ট হাইট হলেও সেটাই ওঁর অ্যাডভান্টেজ। সঙ্গে দারুণ টার্নিং, ওয়ার্কলোড নেওয়ার ক্ষমতা এককথায় কমপ্লিট প্যাকেজ। ইনসিগনে দারুণভাবে ব্যবহার করছেন মানচিনি।

তবে সেমিফাইনালের আগে স্পিনাজোলার ছিটকে যাওয়া বড় ধাক্কা ইতালির জন্য। এই টুর্নামেন্টে প্রতিটি ম্যাচে ইতালির বাঁ-দিকটা ও নিয়ন্ত্রণ করছিল। মানচিনি ওকে উইংব্যাকের মতো ব্যবহার করছিলেন। লুইস এনরিকের স্পেন কিন্তু সুযোগটাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। কোয়ার্টার ফাইনালের মতো স্পেন-ইতালি সেমিফাইনালটাও জমজমাট হবে। অভিজ্ঞতায় হয়তো ইতালি এগিয়ে কিন্তু দক্ষতার বিচারে দুদলই সমান সমান।

তবে আমার খারাপ লাগছে বেলজিয়ামের জন্য। কেভিন ডিব্রুয়েন, লুকাকুদের দুর্দান্ত লড়াইটা কাজে এল না। আসলে এডেন হ্যাজার্ডের না থাকা ফ্যাক্টর হয়ে গেল। তার মধ্যেও জেরেমি ডোকুর মতো তরুণ মুখ নজর কাড়ল। তবে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ডিব্রুয়েনের দুরন্ত শট ডোনারুম্মার বাঁচিয়ে দেওয়াটা। ওটা হলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেত।