শেষ টেস্টে খেল দেখাবে টার্নিং পিচ

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : পিচ নিয়ে আমরা ভাবি না।

দেশে-বিদেশে আমাদের সাফল্যের মূল কারণ এটাই। পিচ যেরকম হোক না কেন, মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। বক্তা বিরাট কোহলি। লক্ষ্য পিচ-সমালোচক এবং ইংল্যান্ড শিবির। সিরিজের নির্ণায়ক টেস্টের আগে বিরাটের মন্তব্যে উত্তাপের আঁচ।

- Advertisement -

নির্ণায়ক ডুয়েলেও স্পিন-জ্বরে কাবু ইংল্যান্ডের অ্যাসিড টেস্ট ফের টার্নিং পিচেই। দুদিনে টেস্ট নিয়ে দক্ষযজ্ঞ বাঁধলেও, সফল-অস্ত্র হাতছাড়ায় নারাজ ভারতীয় শিবির। অর্থাৎ, মোতেরা-২ টেস্ট এপিসোডেও স্পিনারদের হাতেই চাবিকাঠি। খুব বেশি তফাৎ ঘটবে না গোলাপির বদলে লাল বল, দিনরাতের বদলে দিনের ম্যাচের মতো ফ্যাক্টরগুলিতে।

সিরিজ ও ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ- এক ঢিলে জোড়া পাখি মারার সুযোগ বিরাটদের জন্য। চাপ কমাতে হাজির সুখবরও। সিরিজ বাতিলের জন্য অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট কাটার দাবি জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আইসিসি যদি তা মেনে নেয়, তাহলে ভারতের ফাইনালের রাস্তা একদম পরিষ্কার। টিম ইন্ডিয়া অবশ্য যদি, কিন্তুর ওপর নির্ভর করতে নারাজ।

বিরাটের দাবি, তারা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট নিয়ে ভাবতে গিয়ে ম্যাচের ফোকাস নষ্ট করতে নারাজ। বি পজিটিভ মানসিকতা নিয়ে ঝাঁপাবেন। পালটা জবাবে রুটরা যেখানে এখনও হাতড়ে বেড়াচ্ছে স্পিন-ধাঁধার উত্তর। ভিভ রিচার্ডস, ইয়ান চ্যাপেলরা ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ডের স্পিন ভীতি নিয়ে কথা বলেছেন। বাতলে দিয়েছেন তা কাটিয়ে ওঠার উপায়ও। তবে অশ্বীন-অক্ষররা সেই সুযোগ দেবেন বলে মনে হয় না। দোসর হিসেবে থাকার সম্ভাবনা কুলদীপ যাদবেরও।

ভারতের দ্বিতীয় পরিবর্তন জসপ্রীত বুমরাহ-র জায়গায় উমেশ যাদব। পারিবারিক কারণে লম্বা ছুটিতে বুমরাহ। খবর, ক্রিকেটকে আপাতত কিছুদিন সরিয়ে রেখে জীবনের নতুন ইনিংস শুরুর তোড়জোড়ে ভারতীয় পেসার। সানাই, বিয়ে মণ্ডপ- আপাতত এসব নিয়ে নাকি ব্যস্ততা। চোট কাটিয়ে ফেরা উমেশের জন্য সুযোগ ফের দায়িত্ব পালনের। দৌড়ে থাকছেন মহম্মদ সিরাজও।

গত ম্যাচে দল গঠনে গণ্ডগোল করেছিল ইংল্যান্ড। গোলাপি বলের গোলকধাঁধায় টার্নিং পিচের হিসেবটা বুঝতে পারেননি রুট-সিলভারউডরা। জিওফ বয়কট খোঁচা দিয়ে বলেছিলেন, খুব জানতে ইচ্ছে করে, টার্নিং পিচে চার পেসার খেলানোর দুর্দান্ত আইডিয়াটা কার মস্তিষ্কপ্রসূত। ভুল শুধরে কাল সম্ভবত, জ্যাক লিচের সঙ্গে দ্বিতীয় স্পিনার ডম বেস খেলবেন স্টুয়ার্ট ব্রডের জায়গায়। আর ৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে চমকে দেওয়া রুট তো রয়েছেন।

ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভও রুট। সিরিজের প্রথম ম্যাচে দ্বিশতরান করে দলকে জিতিয়েছেন। বাঁচার ম্যাচে অধিনায়কের থেকে দলের প্রত্যাশা তেমনই একটা চিত্তাকর্ষক ইনিংস। আসলে ক্রলি, সিবলি, বেয়ারস্টোরা থাকলেও, ব্যর্থতার লম্বা লাইন। কামব্যাক টেস্টে বেয়ারস্টো যেমন চশমার শিকার (জোড়া শূন্য)। অক্ষরদের স্পিন পড়তেই পারছেন না ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানরা। মাইকেল ভন, নাসের হুসেনরা পিচকে গালমন্দ করলেও সমস্যা সেই তিমিরে। চতুর্থ ম্যাচে তা কি বদলাবে? এরসঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আহমেদাবাদের ক্রমশ বাড়তে থাকা তাপমাত্রা। মাথার ওপর কড়া রোদ, গরমে হাঁসফাঁস হালটাও সামলানো সহজ হবে না থ্রি লায়ন্সের পক্ষে।