থুতু ব্যান সাদা বলের ক্রিকেটে প্রভাব ফেলবে না : কার্তিক

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকা ত্রয়োদশ আইপিএল নিয়ে নিজেদের পজিটিভ ভাবনা স্পষ্ট করা।

বৃহস্পতিবার বেলার দিকে প্রথমবার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে অনায়াসে দুটো কাজই করে ফেলল কলকাতা নাইট রাইডার্স। শাহরুখ খানের ফ্র‌্যাঞ্চাইজির তরফে সিইও ভেঙ্কি মাইসোর ঘোষণা করে দিলেন, তাঁরা তো বটেই, আইপিএলের বেশিরভাগ ফ্র‌্যাঞ্চাইজি পুরো ফর্ম্যাটে প্রতিযোগিতা চাইছে। শুধু তাই নয়, কেকেআর সিইও জানিয়েছেন, তাঁরা বিদেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে ত্রয়োদশ আইপিএলে নামতে চান। আইপিএল এমন একটা প্রতিযোগিতা যা নিয়ে ক্রিকেট তো বটেই, তার বাইরে সমাজের বৃহত্তর অংশেরও আগ্রহ রয়েছে প্রবল। তাই তিনি চান, চলতি বছরে স্থগিত থাকা ত্রয়োদশ আইপিএল হোক।

- Advertisement -

গত ২০ মে বাংলার ওপর দিয়ে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড় আমপান। ঘটনার পর তিনসপ্তাহ কেটে গেলেও বাংলার বহু জায়গায় এখনও আমপানের প্রভাব রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকে সাহায্য করার জন্য শাহরুখের ফ্র‌্যাঞ্চাইজি এদিন কেকেআর সহায়তা বাহন চালু করল। যা বাংলার নানা জেলায় ছড়িয়ে থাকা অসহায় মানুষকে সাহায্য পৌঁছে দেবে। এই কেকেআর সহায়তা বাহনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে। অনলাইন সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হয়ে ভেঙ্কি মাইসোর বলেছেন, আমার মতে, আইপিএল এমন একটা প্রতিযোগিতা যেখানে ভারত তো বটেই, গোটা দুনিয়ার প্রবল আগ্রহ থাকে সবসময়। ভারতীয় ক্রিকেটাররা এই প্রতিযোগিতার মুখ হলেও বিদেশিরা হলেন আকর্ষণ। তাই সব ফ্র‌্যাঞ্চাইজিরই মত হল আইপিএল হলে পুরো ফর্ম্যাটেই হোক। যেখানে সব ক্রিকেটারকেই পাওয়া যাবে।

কেকেআর সিইও আরও বলেছেন, কেকেআরের তরফে বলতে পারি, আমরা দুর্দান্ত একটা মরশুমের অপেক্ষায় ছিলাম। এখনও রয়েছি। আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারিন, ইয়োন মরগ্যান, প্যাট কামিন্স- আমাদের বিদেশি ক্রিকেটাররাই এবারের মরশুমের মূল আকর্ষণ ছিল। দেখা যাক কী হয়। আমরা পজিটিভ ভাবনা ভাবতে চাই। নাইটদের সিইওর মতোই অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকও প্রবল আশাবাদী থমকে থাকা আইপিএল নিয়ে। প্রায় আড়াইমাস গৃহবন্দি জীবন কাটানোর মাঝে ডিকের এখন গালভর্তি দাড়ি। কিন্তু তার মধ্যেও নিজের ক্রিকেটীয় ফোকাসে অবিচল কেকেআর অধিনায়ক। তিনি বিশ্বাস করেন, করোনা পরবর্তী ক্রিকেটের মূলস্রোতে ফেরার জন্য অন্তত চার সপ্তাহের অনুশীলন যথেষ্ট হবে। পাশাপাশি সময়ে সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রিকেটের বদলে যাওয়া চেহারার সঙ্গেও সবাইকে মানিয়ে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন ডিকে।

আইসিসি ইতিমধ্যেই বল পালিশে থুতু ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর বলা হচ্ছে, ক্রিকেট খেলাটা রোবটের মতো হয়ে যাবে। কার্তিক অবশ্য এতটা নেগেটিভ ভাবতে রাজি নন এখনই। তিনি বলেছেন, লকডাউনের মধ্যেও যতটা পেরেছি অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছি। এখন ছবিটা বদলাচ্ছে। এবার পুরোদমে অনুশীলনের পথে যেতে হবে আমাদের। আর পুরোপুরি ক্রিকেটে ফিরতে অন্তত চার সপ্তাহের অনুশীলন প্রয়োজন। সবকিছু এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আর বল পালিশের জন্য থুতুর ব্যবহার না করাটাও রপ্ত করতে হবে। সমস্যা হবে কিন্তু কিছু করারও নেই। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে বল পালিশ নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তিত নই। কারণ ওয়ান ডে বা টি২০ ক্রিকেটে এর বেশি প্রভাব পড়ার কথা নয়।