মালদা, ২০ অক্টোবর : বেদখল হয়ে চলেছে মালদার প্রস্তাবিত স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাঠ। গজিয়ে ওঠা ঘনবসতি ক্রমেই গ্রাস করে চলেছে গোটা মাঠটিকে। এই মাঠে বাড়ি তৈরির ছাড়পত্র মিলছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিলেই। আর এই ছাড়পত্র দিচ্ছে স্থানীয় বাহুবলীরা বলে অভিযোগ। তবে এনিযে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চাইছেন না কেউই। মাঠের উলটো দিকেই পুলিশ সুপারের বাংলো, আর দুশো মিটারের মধ্যেই জেলা প্রশাসনিক ভবন। প্রশাসনিক কর্তাদের নাকের ডগাতেই চলছে প্রস্তাবিত স্পোর্টস কমপ্লেক্সের জমির বেদখল। উদাসীন মালদা জেলা প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনিক কর্তাদের কোনো বক্তব্য না পাওয়া গেলেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন জেলার ক্রীড়ামোদীরা। ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মালদা রামকৃষ্ণ মিশন কর্তপক্ষ।

প্রসঙ্গত, একদিকে রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালিত বিবেকানন্দ স্কুল, অন্যদিকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠ। মাঝে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফাঁকা মাঠ। সরকারি খাসজমি হওয়ায় এই মাঠটির কোনো মালিকানা ছিল না। অতীতে এই মাঠেই অনুষ্ঠিত হত মেলা, সার্কাস ও ছোটোখাটো খেলা। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই জমিটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা নিজেদের অধীনে নেওয়ার চেষ্টা চালিযে যাচ্ছিল। উদ্দেশ্য ছিল একটা বড়ো স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ে তোলার। মাঠটি নিজেদের অধীনে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিল মালদা রামকৃষ্ণ মিশনও। তবে শেষ পর্যন্ত সরকারি এই খাসজমি দিযে দেওয়া হয় জেলা যুবকল্যাণ ও ক্রীড়াদপ্তরকে। পরবর্তীতে জানা যায় মাঠটি মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে রামকৃষ্ণ মিশনকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলা যুবকল্যাণ ও ক্রীড়াদপ্তর এনিযে কাগজপত্র তৈরির কাজও শুরু করে দেয়। ঠিক হয় রামকৃষ্ণ মিশন, জেলা প্রশাসন ও ক্রীড়ামোদীদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি তৈরি করা হবে। এই কমিটির অধীনেই থাকবে মাঠের দায়িত্ব। বিস্তীর্ণ এই মাঠে গড়ে তোলা হবে স্পোর্টস কমপ্লেক্স। এনিযে ২০১৮ সালে প্রশাসনিক পর্যায়ে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত হয়, স্পোর্টস কমপ্লেক্সে থাকবে ৪০০ মিটার রানিং ট্র‌্যাক, ট্র‌্যাকের ভিতরে থাকবে ফুটবল গ্রাউন্ড, একপাশে ক্রিকেট অনুশীলন, কবাডি, ভলিবল, খোখো খেলার একাধিক পরিকাঠামো। বিএডিপি ফান্ড থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দও হয়। চলতি বছরের শুরুতেই কাজ শুরু হযে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অজানা কোনো কারণে সেই কাজ থমকে রযেছে।

রামকৃষ্ণ মিশনের মঠাধ্যক্ষ ত্যাগরূপানন্দজি মহারাজ জানান, সত্যিই খুব খারাপ লাগছে মাঠের মধ্যে গজিযে ওঠা বস্তি দেখে। সেটা দেখার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদেরকে মাঠটি দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো কাগজ আমাদের কাছে আসেনি। মাঠের হাল ফেরাতে আমরা যে উদ্যোগ নেব তা করে উঠতে পারছি না। প্রতিবছরই বন্যার সময় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষেরা এই মাঠে চলে আসেন। জল নেমে যাওয়ার পর তাঁদের অনেকেই নিজের জায়গায় ফিরে যান, আবার অনেকে পাকাপাকিভাবে মাঠেই বসবাস করতে শুরু করে দেন। এইভাবেই মাঠটি সংকুচিত হযে চলেছে। এবিষযে মালদা জেলা প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।

মালদা জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রাক্তন সম্পাদক শুভাশিস সরকার বলেন, স্পোর্টস কমপ্লেক্সের গঙ্গাপ্রাপ্তি ঘটেছে। জেলার খেলাধূলার পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে আমি ২৫-৩০ বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। ওই মাঠে স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। পরে দেখতে পেলাম মাঠের একটা অংশে গড়ে তোলা হল যুব আবাস। ফলে ৪০০ মিটার রানিং ট্র‌্যাক হওয়ার জায়গা ছোটো করে দেওয়া হল। পরে শুনতে পেলাম নাকি ২০০ মিটার ট্র‌্যাক সহ স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ার কাজ শুরু হচ্ছে। টাকাও নাকি চলে এসেছে। প্রায় দেড় বছর অতিক্রান্ত, এখনও কোনো কাজ হয়নি। আমার মনে হয় স্পোর্টস কমপ্লেক্স মালদাবাসীর কাছে অলীক কল্পনা।