রেলগাড়ির আদলে স্কুল সাজিয়ে সচেতনতার বার্তা

ময়নাগুড়ি : স্কুলের নাম মা। ক্যাপশন- আমার স্বপ্নের স্কুলবাড়ি, বন্ধনের রেলগাড়ি। স্কুলবাড়িটি দেখলে মনে হয় একটি আস্ত রেলগাড়ি। রয়েছে বিভিন্ন সচেতনতার বার্তা। শ্রেণিকক্ষগুলিকে রং দিয়ে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে রেলগাড়ির কম্পার্টমেন্টের মতো করে। এক-একটি রেলের কামরা মূল্যবোধ, চেতনা, অধ্যাবসায়, শিক্ষাদান, শিক্ষাগ্রহণ, ত্যাগ ও সততার প্রতীক হিসেবে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। এভাবেই সাজানো হয়েছে ময়নাগুড়ি শহরের সুভাষনগর জুনিয়ার বেসিক স্কুলকে। শুধু রঙে-বর্ণে সাজিয়ে তোলাই নয়, পঠনপাঠন সহ সার্বিক বিষয়ে স্কুলটি সেরা বলে দাবি অভিভাবকদের।

১৯৫৭ সালের স্কুল। বর্তমানে পড়ুয়ার সংখ্যা ১৪৫। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন পাঁচজন। কম্পোজিট গ্র‌্যান্টের অর্থে স্কুলবাড়িটাকে এভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। স্কুলবাড়িটি এখন একটি কাল্পনিক লোকাল ট্রেন। প্রতিটি কামরার গায়ে রয়েছে সচেতনতার প্রচার। প্লাস্টিক বর্জন, চারাগাছ রোপণ, সবুজায়ন, সততা, অপরকে সহযোগিতা করা সবকিছুই মনে করিয়ে দেবে এই রেলগাড়ি। শ্রেণিকক্ষের নম্বর বসানো হয়েছে রেলের কামরার মতো করেই। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শৌমিক চক্রবর্তী বলেন, মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে মনে করি, শিশুদের সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াই কাজ। রেলগাড়ির সঙ্গে স্কুলের একটা আত্মিক যোগসূত্র রয়েছে- সঠিক গন্তব্যে এগিয়ে যাওয়া। এই রেলগাড়ির মধ্য দিয়ে ছেলেমেয়েরা ফিরে পাবে কাল্পনিক একটা জগত। মাকে জানবে। শিষ্টাচার বোধ গড়ে উঠবে। ভিলেজ এডুকেশন কমিটির সভাপতি তথা ময়নাগুড়ির গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সজল বিশ্বাস বলেন, কেবলমাত্র রঙে রাঙিয়ে তোলা বা স্কুলবাড়িটিকে রেলের আদলে তুলে ধরাই নয়, স্কুলের সবকিছুই ভালো। শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলকে ভালোবাসেন। আমরা এই স্কুলকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরছি।

- Advertisement -

অভিভাবক স্বপন সাহা বলেন, স্কুলের সবকিছু ভালো। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনেক ধন্যবাদ জানাই। অভিভাবিকা কবিতা সরকার বলেন, শিশুদের জন্য এমন স্কুল পেয়ে আমরা গর্বিত। তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া সঞ্চিতা সাহা বলে, স্কুলে যেতে পারছি না, তাই মন খারাপ। চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া প্রান্ত সরকার বলে, আমাদের স্কুল খুব ভালো। মাস্টারমশাই ও দিদিমণিরা আমাদের সকলকেই আলাদাভাবে দেখেন। অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক বিবেকানন্দ বর্মন বলেন, এভাবে শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক চেতনার বিকাশ ঘটবে। সকলকেই এভাবে এগিয়ে আসা উচিত।