পড়ুয়াদের নিয়ে বসন্ত উৎসব হরিশ্চন্দ্রপুরে

123

হরিশ্চন্দ্রপুর: কিছুদিন পরই বাঙালির প্রিয় উৎসব দোল। এই দোল উৎসবের প্রাক্কালেই গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বসন্ত উৎসবে মাতলেন উদয়শঙ্কর পুরস্কারপ্রাপ্ত হরিশ্চন্দ্রপুরের ভূমিপুত্র সুরজিৎ মিশ্র(৩৭)। সুরজিতের বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বর্ধিষ্ণু গ্রাম পিপলাতে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কত্থক ক্লাসিক্যাল ভারতনাট্যম প্রভৃতি নিত্তের তালিম নিয়েছেন। নাচের সূত্রে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমনকি বিদেশেও গিয়েছেন তিনি। কিন্তু শুধুমাত্র গ্রামের ছেলে মেয়েদের জন্য এলাকায় ক্লাসিক্যাল নৃত্য বাংলার হারিয়ে যাওয়া নাচকে তুলে ধরতেই তিনি হরিশ্চন্দ্রপুর ফিরে এসেছে। গ্রাম বাংলার শিশু-কিশোরদের মাঝে এখন রবীন্দ্র নৃত্য লোকনৃত্য ক্লাসিক্যাল ভারতনাট্যমের কদর কমে আসছে। জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকার সহ বিভিন্ন গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের অল্প পয়সার বিনিময়ে বাংলা সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাওয়া নাচ শেখাচ্ছেন তিনি। এমনকি নাচ শিখতে আগ্রহী দুঃস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিনা পয়সাতেই নাচের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। রবিবার সুরজিৎ বাবু নির্দেশনাতে হরিশ্চন্দ্রপুরের এক প্রখ্যাত জমিদারবাড়ির বাগানে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হল বসন্ত উৎসব।

সুরজিৎ বাবু জানান, বিগত দু’বছর থেকে তিনি তার ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে দোলের আগেই বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেন। এলাকায় গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্লাসিক্যাল নৃত্যের প্রসার এবং উৎসাহ যোগাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তিনি। গ্রাম বাংলার শিশু কিশোর কিশোরীরা বড় বেশি বলিউড কালচারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। ভুলে যাচ্ছে উদয় শংকরের মত বাংলার প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পীদের নৃত্য শৈলী নাচ নিয়ে তাদের চিন্তা ভাবনা। তাই নাচের জগতে গ্রামের শিশু-কিশোর-কিশোরীদের টেনে আনতে আমি শহর থেকে চলে এসে গ্রামে এলাকার উৎসাহী ছাত্র-ছাত্রী তালিম দিচ্ছি। আমি চাই বাংলার প্রতি ঘর থেকে উদয় শংকর তনুশ্রী শংকরের মত নৃত্যশিল্পী বেরিয়ে আসুক। আমি আমার নাচে উদয় শংকর শৈলির নৃত্যকেই প্রাধান্য দিচ্ছি।

- Advertisement -

এলাকার প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী অজন্তা মিশ্র জানান, সুরজিৎ মিশ্রর তত্ত্বাবধানে প্রতিবারের ন্যায় এবারও বসন্ত উৎসব উদযাপন হল। খুবই ভালো লাগছে গ্রামের ছেলে মেয়েরা আবার বাংলার হারিয়ে যাওয়া নাচ গানে মেতে উঠছে আগ্রহ প্রকাশ করছে। আমরা চাই এই ধারাটা যেন বজায় থাকুক।