ব্লাড ব্যাংকে কর্মীসংকট, পরিষেবা পেতে হয়রানি

204

প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা : একসময় দিনহাটা হাসপাতাল বা অন্য কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের রক্তের প্রয়োজন হলে তাঁদের আত্মীয়দের ২৫ কিমি দূরে কোচবিহার এমজেএন হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে হত। কিন্তু এরপর দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালেও ব্লাড ব্যাংক চালু হয়। ফলে শহরের বাসিন্দারা ভেবেছিলেন, এবার রোগীর আত্মীয়দের হয়রানি কমবে। কিন্তু দুবছর পেরিয়ে গেলেও সেই ব্লাড ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামোর কোনও উন্নতি হয়নি। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা কর্মীসংকট।

ব্লাড ব্যাংকে পাঁচজন চিকিৎসক, তিনজন নার্স, সাতজন টেকনিসিয়ান, একজন ডেটা এনট্রি অপারেটর ও একজন স্টোরকিপার থাকার কথা। কিন্তু দিনহাটা হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক চালুর পর থেকে চিকিৎসক পদ এখনও শূন্য রয়েছে। টেকনিসিয়ান ছাড়া বাকি পদও ফাঁকা পড়ে রয়েছে। সাতজন টেকনিসিয়ান থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সেখানে পাঁচজন রয়েছেন। তবে তাঁদের মধ্যে তিনজন কোভিড হাসপাতালে চলে যাওয়ায় সেই সংখ্যা দুজনে দাঁড়িয়েছে। আর এই কর্মীসংকটের জেরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর রক্তের প্রয়োজন হলে তাঁদের আত্মীয়দের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

- Advertisement -

দিনহাটায় মহকুমা হাসপাতাল সূত্রে খবর, ব্লাড ব্যাংকে মাসে ৩০০-৩৫০ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। আর তাই পরিষেবার দিক থেকেও ব্লাড ব্যাংককে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হয়। কিন্তু মাত্র দুজন টেকনিসিয়ান থাকায় ব্লাড ব্যাংকের পরিষেবাই এখন প্রশ্নের মুখে। শহরের বাসিন্দা রণজিত্ কার্জি বলেন, আমার এক পরিচিত দিনহাটা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁর বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন ছিল। আমি ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে সেই রক্ত চাইলে তারা জানায়, তাদের সংগ্রহে এই গ্রুপের রক্ত নেই। এরপর আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওই গ্রুপের একজন ডোনার এনে সেই রক্ত সংগ্রহের প্রস্তাব দিই। কিন্তু সেখানকার কর্মীরা জানান, এই মুহূর্তে তা সম্ভব নয়। তার কারণ হিসেবে তাঁরা কর্মীসংকটের কথা জানান। যদিও অনেকক্ষণ পরে তাঁরা রক্ত জোগাড় করে দেন। সঠিক পরিষেবা না মেলায় এখনও অনেককে কোচবিহার মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত নিয়ে আসতে হয়। রোগীদের সুবিধার্থেই যখন ব্লাড ব্যাংক তৈরি হয়েছে, তখন  রক্ত পেতে গিয়ে হয়রানি কেন? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ নিয়ে ভাবা উচিত।

দিনহাটা ব্লাড গ্রুপ সোসাইটির সদস্য উত্তম সাহা বলেন, মানুষ এখন অনেকটাই সচেতন। জন্মদিন থেকে বিয়েবাড়ি-অনেক অনুষ্ঠানেই তাঁরা রক্তদান করছেন। এই বাসিন্দাদেরই যখন রক্ত পেতে হয়রানির শিকার  হতে হয়, তখন তাঁদের উৎসাহে ভাটা পড়বে। ব্লাড ব্যাংকে এখনও সেপারেশন ইউনিট তৈরি না হওয়ায় রক্তের বিভিন্ন উপাদান পৃথক করা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তের নির্দিষ্ট উপাদান না দিয়ে রোগীর দেহে সম্পূর্ণ রক্তই দিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে চাহিদা ও জোগানে ঘাটতি দেখা যায়। তাই অবিলম্বে সেপারেশন ইউনিট চালু করা প্রয়োজন। হাসপাতাল সুপার রণজিৎ মণ্ডল বলেন, কোভিড হাসপাতালে কয়েকজন টেকনিসিয়ান গিয়েছেন। তাঁরা আবার কাজে যোগ দিলেই সমস্যা অনেকটা মিটে যাবে। চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। ব্লাড সেপারেশন ইউনিটও শীঘ্রই চালু হবে।