কর্মী সংকট, গ্রামোন্নয়নের কাজ থমকে হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে

199

হলদিবাড়ি: কর্মীর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামোন্নয়নের কাজ থমকে রয়েছে কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ি ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ওই পঞ্চায়েতগুলিতে সদস্যেরা আসছেন ঠিকই, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকায় সদস্যেরা যে সব কাজের পরিকল্পনা করছেন, তা ঠিকমতো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা এসে পড়ে রয়েছে পঞ্চায়েতে। করোনাকালে এমন পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরাও ক্ষুব্ধ।

প্রশাসন সূত্রের খবর, মেখলিগঞ্জ মহকুমার হলদিবাড়ি ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েতের কর্মী-সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম রয়েছে। মহকুমাশাসক রামকুমার তামাং বলেন, ‘বহু পঞ্চায়েতেই পদ খালি রয়েছে। আমরা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে জানিয়েছি।’ জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, পঞ্চায়েত সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে পঞ্চায়েতগুলিতে কর্মী নিয়োগ করা হবে। এ বিষয়ে তাঁদের কিছু করার নেই। শূন্য পদের সংখ্যা রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর,হলদিবাড়ি ব্লকের পঞ্চায়েতে সচিব, নির্বাহী সহকারী, নির্মাণ সহায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সর্বাধিক খারাপ অবস্থায় রয়েছে উত্তর বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত। মাত্র এক জন করে সেক্রেটারি, সহায়ক এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মী সম্বল। ফলে, পরিষেবায় ঘাটতি হয়। নির্মাণ সহায়কের পদটি খালি থাকায় নতুন কোন উন্নয়নের কাজের পরিকল্পনা করা যাচ্ছে না। নির্মাণ সহায়কের তদারকির অভাবে হাতে ওয়ার্ক অর্ডার থাকলেও নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারছেন না বরাত প্রাপ্ত ঠিকাদাররা। রাজ্যের অন্যান্য পঞ্চায়েতের মতো এই পঞ্চায়েতটিতেও দিনের পর দিন কাজের চাপ বেড়েছে। পঞ্চায়েত প্রধান জুহিলিকা মজুমদার স্বীকার করে নিয়েছেন, কর্মী ও আধিকারিকের অভাবে উন্নয়নমূলক কাজকর্ম কার্যত থমকে গিয়েছে। পঞ্চায়েত সূত্রের খবর, ‘করোনা পরিস্থিতিতে আর্থিকভাবে সংকটে পড়া শ্রমিকদের ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে কাজ করেও অনেকে কোনও পারিশ্রমিক পাননি।’