সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : রাজ্য কৃষিজ বিপণন দপ্তর পরিচালিত ধূপগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজারে গত দশ বছরে একটিও স্টল বণ্টন হয়নি। ফলে ৫১টি বিভিন্ন মাপের স্টল পড়ে রয়েছে। অব্যবহারে পড়ে থেকে সরকারি টাকায় নির্মিত এই স্টলগুলির বেহাল দশা।

স্থানীয়ভাবে সুপার মার্কেট নামে পরিচিত এই পাইকারি বাজারে শনিবার ও মঙ্গলবার হাটের দিন ছাড়াও সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতেও কাঁচা সবজি, ফল থেকে শুরু করে গবাদিপশুও কেনাবেচা হয়। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা, পাশের রাজ্য অসম, সিকিম, বিহার এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভুটান এবং নেপালেও কাঁচা শাকসবজি যায় এই পাইকারি বাজার থেকে। এই বাজারের ওপর ভিত্তি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন বেশ কয়েক হাজার কৃষক, কাঁচামাল ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং পরিবহণ ব্যবসায়ীরা। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফে এই পাইকারি বাজার চালুর নির্দেশিকা জারি হলেও পরবর্তীতে প্রথম বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই জমি অধিগ্রহণ সহ অন্যান্য কাজ করে প্রায় পঁচাত্তর বিঘা জমির ওপর এই বাজার চালু করা হয়। এই বাজারের কারণেই ধূপগুড়ি এবং আশপাশের এলাকাগুলিতে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়। প্রাথমিকভাবে কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য শেড নির্মিত হলেও নয়ের দশকের শেষ দিক থেকে বাজার চত্বরে স্টল তৈরি করে ব্যবসায়ীদের বণ্টন শুরু করে রাজ্য সরকার। একসময় এভাবেই কয়েশো স্টল পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে গত দশ বছর কোনো অজানা কারণে এই বাজার চত্বরে একটিও স্টল বণ্টন হয়নি। ফলে গত দশ বছরে বিভিন্ন সময়ে সরকারি টাকায় নির্মিত ৫১টি স্টল পড়ে থেকে অনেক ক্ষেত্রেই বেহাল হয়ে গিয়েছে। কোথাও দেখা যাচ্ছে বড়ো ফাটল আবার কোথাও মরচে পড়ে নষ্ট হচ্ছে লোহার শাটার। এক সময়ে ধূপগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজারের বদলে বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে গত ২০১৪ সালে এর নাম হয় জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার। জেলাশাসক বা এডিএম পদমর্যাদার কোনো আধিকারিককে সভাপতি করে একজন ডব্লিউবিসিএস পদমর্যাদার আধিকারিককে সচিব পদে বসিয়ে পরিচালিত হয় এই বাজার। কিন্তু গত দশ বছরে দুই সরকারের আমল মিলিয়ে পাঁচজন সচিব বদল হলেও নির্মিত স্টলগুলির একটিও পাননি ব্যবসায়ীরা। উপরন্তু উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের অর্থানুকূল্যে বর্তমানে আরও প্রায় দেড়শো স্টল নির্মাণ চলছে বাজার চত্বরে, যার কাজও একেবারেই শেষ পর্বে। ধূপগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সলিল দত্ত বলেন, দশ বছর যাবৎ বাজার চত্বরে একের পর এক স্টল নির্মাণ হলেও কোনো অজানা কারণে সেগুলি বণ্টন হয়নি। এর ফলে সরকারের কোষাগার থেকে য়ে টাকা ব্যয় হয়েছে তা নষ্ট হচ্ছে। এই স্টলগুলো থেকে ভাড়া বাবদ যে আয় সরকারের হত তাও মার খাচ্ছে। অথচ প্রচুর ব্যবসায়ী বছরের পর বছর খোলা আকাশের নীচে প্লাস্টিক টাঙিয়ে দোকান করে যাচ্ছেন শত প্রতিকূলতার মাঝে। স্টল পেলে তাঁরা উপকৃত হবেন। আমরা এই দাবিতে আন্দোলন করছি। ব্যবসায়ীদের দাবি নিয়ে ধূপগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, স্টল বণ্টন দ্রুত শুরু করার বিষয়ে জেলা প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে। ব্যবসায়ীদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন ধূপগুড়ির বিধায়ক মিতালী রায়ও। তিনি বলেন, যেসব ব্যবসায়ীর স্টল প্রযোজন তাঁরা যেন অগ্রাধিকার পান সেটা নিশ্চিত করতে কথা বলেছি আধিকারিকদের সঙ্গে। স্টল বণ্টন নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির পক্ষে ধূপগুড়ি বাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্তমান সচিব দীপাঞ্জন পালিত। তিনি বলেন, মাত্র চার মাস আগে দাযিত্ব নিয়েছি। বাজারের অবণ্টিত স্টলের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির সভাপতিকেও আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আধিকারিকদের নিয়ে আমরা স্টল বণ্টনের বিষয়ে পদক্ষেপ করব।