আলিপুরদুয়ারে স্ট্যাম্প পেপারের কালোবাজারি, হয়রানি মানুষের

420
প্রতীকী ছবি

বাপি দাস, আলিপুরদুয়ার : সাধারণ মানুষের স্ট্যাম্প পেপারের প্রয়োজনীয়তাকে হাতিযার করে আলিপুরদুয়ার কোর্ট চত্বরে স্ট্যাম্প পেপারের কালোবাজারি রমরমিয়ে চলছে। ফলে রোজই হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অভিযোগ উঠছে, স্ট্যাম্প পেপারের জন্য নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি দাম আদায় করা হচ্ছে তাঁদের থেকে। এই কালোবাজারির অভিযোগ উঠছে বেশ কিছু সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্ট্যাম্প ভেন্ডারের বিরুদ্ধে।

আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ বিভিন্ন কাজে আলিপুরদুয়ার কোর্টে আসেন। তার মধ্যে অনেকে কোর্টে আসেন বিভিন্ন এফিডেভিট ও চুক্তির কাজে। সেই সব কাজের জন্য প্রতিদিন কোর্ট চত্বরের সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের কাছে ১০ টাকা, ৫০ টাকা ও ১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার কেনার জন্য যান জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ। সেই সুযোগকে হাতিযার করেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে স্ট্যাম্প পেপার। অভিযোগ উঠছে, ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা, ৫০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা ও ১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেকেই তাড়াতাড়ি কাজ সারার কথা ভেবে মুখ বুজে চড়া দামেই তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকক্ষেত্রেই যাঁরা এই কালোবাজারির প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের খালি হাতেই ঘুরে আসতে হচ্ছে। এমনকি স্ট্যাম্প পেপার নেই বলে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যাঁরা বেশি টাকা দিয়ে স্ট্যাম্প কিনতে রাজি হচ্ছেন, সেই ভেন্ডারের কাছ থেকেই তাঁরা স্ট্যাম্প পেপার অনায়াসেই পেয়ে যাচ্ছেন।  দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের অভিযোগ, আলিপুরদুয়ার কোর্টের লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ স্ট্যাম্প পেপার থাকা সত্ত্বেও তাঁরা ইচ্ছে করে স্ট্যাম্প পেপারের ঘাটতি দেখিয়ে কালোবাজারি করছেন।

- Advertisement -

সোনাপুরের বাসিন্দা প্রদীপ বর্মন বলেন, আমি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরশিপ নেওয়ার জন্য কোর্টে এগ্রিমেন্টের জন্য এসেছিলাম। কিন্তু এগ্রিমেন্ট তৈরির জন্য কোর্ট চত্বরের এক স্ট্যাম্প ভেন্ডার ১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারের জন্য আমার কাছ থেকে ১৮০ টাকা নেন। আমার স্ট্যাম্প পেপারের খুবই প্রয়োজন ছিল। তাই আমি কোনও প্রতিবাদ না করেই স্ট্যাম্প পেপার নিতে বাধ্য হই। কালচিনি ব্লকের চুয়াপাড়া চা বাগানের কলেজ ছাত্র সুমিত এক্কা বলেন, আমি জাতিগত শংসাপত্র তৈরির জন্য এফিডেভিট করার জন্য কোর্ট চত্বরের একটি স্ট্যাম্প ভেন্ডারের কাছে ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার কিনতে যাই। প্রথমে আমাকে স্ট্যাম্প পেপার নেই বলে ঘুরিয়ে দেওযা হয়। কিন্তু পরে গিয়ে বেশি টাকা দেওযার প্রস্তাব দিলে ২০ টাকার বিনিময়ে আমাকে একটি ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার দেওযা হয়।

এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ারের কোর্টের আইনজীবী হেমন্ত বর্মন বলেন, স্ট্যাম্প পেপারের  এই কালোবাজারির জন্য জেলার বিভিন্ন চা বাগানের সাধারণ মানুষ বেশি প্রতারিত ও হয়রান হচ্ছেন। এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ার বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুহৃদ মজুমদার বলেন, দিনের পর দিন স্ট্যাম্প পেপারের এই কালোবাজারির জন্য কোর্টে আসা জেলার বহু সাধারণ মানুষ তো হয়রান হচ্ছেন, সঙ্গে আইনজীবীদেরও হয়রান হতে হচ্ছে। এই কালোবাজারির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ নেওযা উচিত। আমরা সেই কাজে প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতা করব।  আলিপুরদুয়ারের স্ট্যাম্প ভেন্ডার অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়ার সদস্য জয়পদ সরকার বলেন, অভিযোগ পুরোপুরি ঠিক নয়। হয়তো কেউ এই কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সমস্ত স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের সঙ্গে কথা বলব ও আবার যাতে এমন কালোবাজারির সঙ্গে কেউ জড়িত না হন, সে বিষয়ে তাঁদের সতর্ক করব। এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ারের ট্রেজারি অফিসার তাপস রায়চৌধুরি বলেন, আমরা এ বিষয়ে জেলা শাসকের সঙ্গে কথা বলে উপযুক্ত পদক্ষেপ করব।