ডুয়ার্সের চা বাগানে বোনাস দেওয়া শুরু

660

নাগরাকাটা: বোনাস দেওয়া শুরু হয়ে গেল ডুয়ার্সের চা বাগানে। মঙ্গলবার মেটেলির বড়দিঘি ও কুমারগ্রামের কার্তিক বাগানকে দিয়ে এবারের পুজোর বোনাস পর্ব শুরু হয়। দুই বাগানেই সর্বোচ্চ ২০ শতাংশের হারের বোনাসই দেওয়া হয়েছে। বুধবার মিলবে রায়ডাক বাগানে। অন্যান্য বাগানগুলিতেও চলতি সপ্তাহেই বোনাস মিটিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে চা মহল জানাচ্ছে।

সব মিলিয়ে করোনা সংকটের মাঝেও হাতে কিছু মোটা টাকা পেয়ে এখন খুশির হাওয়া চা শ্রমিকদের মধ্যে। ডুয়ার্স-তরাই ও পাহাড়ের প্রায় তিনশো বড় বাগান সহ মাঝারি ও ছোট বাগান এবং বটলিফ ফ্যাক্টরি মিলিয়ে বোনাস হয়ে যাওয়ার পর বাজারে ৬০০ কোটিরও বেশী টাকা ঢুকবে। এর ফলে করোনা কালে মুখ থুবড়ে পড়া উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি কিছুটা হলেও চাঙ্গা হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

- Advertisement -

বড়দিঘি চা বাগানে এদিন স্থায়ী অস্থায়ী মিলিয়ে মোট দেড় হাজার শ্রমিককে বোনাস দেওয়া হয়। সেখানে বোনাস বাবদ বিলি হয়েছে মোট ১.৫২ কোটি টাকা। বড়দিঘির ম্যানেজার দেবজ্যোতি সরকার বলেন, একেকজন শ্রমিক গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পেয়েছেন। যেহেতু কাজের দিনের পরিমাণের ওপর বোনাসের অঙ্ক নির্ধারিত হয় ১৪ হাজার টাকা হাতে পেয়েছেন এমন শ্রমিকও এখানে রয়েছেন। কার্তিক বাগানেও ১৫০০ শ্রমিক বোনাস পেয়েছেন। সেখানকার ম্যানেজার জ্ঞানেশকুমার সিং বলেন, শতকরা ৮০ শতাংশ শ্রমিককে অনলাইনে বোনাস দেওয়া হয়েছে। বাকিদের হাতে নগদে টাকা তুলে দেওয়া হয়।

চা মালিকদের অন্যতম সংগঠন ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েন (আইটিপিএ) এর ডুয়ার্স শাখার সম্পাদক রাম অবতার শর্মা বলেন, এবার রুগ্নতার নিরিখে যে বাগানগুলিকে ২০ শতাংশের বোনাসের হার থেকে চুক্তি মোতাবেক ছাড় দেওয়া হয়েছে সেই বাগানগুলিও গত বারের থেকে দেড় শতাংশ হারে বেশী বোনাস দেবে। চা শিল্পের ইতিহাসে এমন ঘটনা কিন্তু এই প্রথম। ডিবিআইটিএ-র সম্পাদক সঞ্জয় বাগচি বলেন, আগামী শুক্র ও শনিবার থেকে বোনাস প্রদানে আরও গতি আসবে। আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে সব বাগানই বোনাস দিয়ে দেবে।

চা শ্রমিকদের যৌথ সংগঠন জয়েন্ট ফোরামের অন্যতম আহ্বায়ক জিয়াউল আলম বলেন, বোনাস প্রদান শুরু করে দেওয়াকে স্বাগত জানাচ্ছি। অন্য বাগানগুলিও যত দ্রুত সম্ভব বোনাস দেওয়া শুরু করে দিক। বোনাসকে ঘিরে যাতে কোথাও কমিশন প্রথার সৃষ্টি না হয় তা মালিকদের নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের অর্জিত আয় কোনওভাবেই নয়ছয় হওয়া চলবে না। চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ও বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা বলেন, ২০ শতাংশের বোনাস এবার চা শ্রমিকদের প্রাপ্যই ছিল। সেটা মিলতে চলায় প্রত্যেকেই খুশি।

উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ডঃ দেবকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, চা বাগানে বোনাসের মাধ্যমে চলতি পরিস্থিতিতে এখানকার ঝিমিয়ে থাকা অর্থনীতি যে চাঙ্গা হবে, তা বলাই বাহুল্য। এর ফলে বাজারে টাকার সঞ্চালন বা মানি সার্কুলেশন বাড়বে। তৈরি হবে পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদা। বৃদ্ধি পাবে যোগানও। অর্থনীতির চেইন এফেক্টের মাধ্যমে সমাজের সমস্ত ক্ষেত্রই উপকৃত হবে চা বোনাসের হাত ধরে।

উল্লেখ্য, ৩ বছর পর ডুয়ার্স-তরাই এর প্রায় ২০০টি চা বাগানে এবার ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়া হচ্ছে। একই হারের বোনাস দুকিস্তিতে মিলবে পাহাড়ের ৮৬টি বাগানেও। তবে রুগ্নতার কারণে সর্বোচ্চ ওই হারের বোনাস প্রদান থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে ৩৯টি বাগানকে।