রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব অন্তর্কলহে ভুগছে: সৌগত রায়

0

কলকাতা: রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব অন্তর্কলহে ভুগছে। আর তাই আজ পর্যন্ত তারা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমান্তরাল কোনও মুখ ঠিক করতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু তাই নয় রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের অন্তর্কলহে সামাল দিতে ভিন রাজ্য থেকে আনা হচ্ছে গাদা গাদা পর্যবেক্ষক, সহকারি পর্যবেক্ষক ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের। আর এভাবে তারা এরাজ্যের মানুষের মন জয় করতে পারবে না বলেই মনে করেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। সম্প্রতি তৃণমূল ভবনে প্রতিদিনই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ায় জন্য একেক জন নেতৃত্বের ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন দল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই অনুসারে এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার দায়িত্ব বর্তায় সাংসদ তথা দলের প্রবীণ নেতা সৌগত রায়ের উপর।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সৌগতবাবু জানান, তিনি অন্যের সমালোচনা না করে কিছু ইতিবাচক বার্তা দিতে চান। তাঁর মতে বিজেপি একদল, এক ভাষা চালু করতে চায় দেশজুড়ে। পশ্চিমবঙ্গ হল তার মধ্যে এক উজ্জ্বলতম ব্যতিক্রম। তিনি জানান, আগামী ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন দেশের ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলির কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। তাঁর মতে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে এক করতে সমর্থ হয়েছেন। আর সেটাই তাঁদের গর্ব।

- Advertisement -

এদিন তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট থেকে সিবিআই, রাজ্যপাল সবাই দেশকে অবনমনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সচেষ্ট হয়েছেন। আর এজন্য মানুষকেই রুখে দাঁড়াতে হবে বলেই তিনি মনে করেন।

এদিন সৌগতবাবু অভিযোগ করেন, বিজেপি দেশের বুকে দলত্যাগীদের উৎসাহিত দিয়ে নির্বাচিত সরকারকে ভেঙে ফেলার খেলায় মত্ত হয়েছে। রাজ্যপাল জাগদীপ ধানকড় প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে সৌগতবাবু বলেন, এরাজ্যে নুরুল হাসান থেকে গোপালকৃষ্ণ গান্ধি রাজ্যপালের পদের মর্যাদা বাড়িয়েছেন। কিন্তু বর্তমান রাজ্যপাল রাজভবনের মর্যাদা যেমন ক্ষুণ্ণ করেছেন তেমনি শাসক দলের নেতাতে পরিণত হয়েছেন।

কেন্দ্রের বিরোধিতা করতে গিয়ে সৌগতবাবুর বক্তব্য, লকডাউনের সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কেন্দ্র। শুধু কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে বিক্রি করার চিন্তা-ভাবনা নিয়েই চলছে। ইতিমধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া, ভারত পেট্রোলিয়াম বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। কয়লায় প্রায় ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ আনা হচ্ছে। শুধু তাই নয় দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকেও আজ বেসরকারিকরণের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, সম্প্রতি যে কৃষি আইন পাশ হয়েছে তা কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেছে।