রাজ্যের নির্দেশে জলপাইগুড়ি পুরসভার টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত

317

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : রাজ্যের নির্দেশে জলপাইগুড়ি পুরসভার টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই নবান্নের বিশেষ বার্তা জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের কাছে এসেছে। পুরসভার টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পুরসভার নির্মাণকাজ সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কয়েকশো কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুর কর্তপক্ষের বিরুদ্ধে বিশেষ কয়েকজনকে বিধিবহির্ভূতভাবে কাজের বরাত দেওয়ারও নির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। নবান্নের নির্দেশ আসার পর জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে বুধবার একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। জলপাইগুড়ি পুরসভার টেন্ডার প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফিনান্স অফিসার প্রবীর দাস ঠিকাদারদের বিলে সই না করায় পুর কর্তপক্ষের সঙ্গে তাঁর ঠান্ডা লড়াই চলছে কয়েক মাস ধরেই। পুরসভার বিরোধী কংগ্রেস এবং সিপিএম কাউন্সিলাররাও টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বজনপোষণের অভিযোগ করেছেন। সূত্রের খবর, গত পাঁচ বছরের সমস্ত টেন্ডারের নথি দেখা হবে। তদন্তকারী দলের সদস্যরা টেন্ডার ঠিকমতো হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখবেন। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকজন ঠিকাদার জলপাইগুড়ি পুরসভার বড়ো অঙ্কের টাকার নির্মাণকাজের বরাত ধারাবাহিকভাবে পেয়ে চলেছেন। জেলাশাসক অভিষেক তিওয়ারি অবশ্য নবান্নের নির্দেশের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

এদিকে, জলপাইগুড়ি পুরসভার ফিনান্স অফিসার প্রবীর দাসের সঙ্গে পুর কর্তৃপক্ষের বিরোধ প্রসঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ডঃ সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, ফিনান্স অফিসার এবং পুর কর্তপক্ষের বিরোধের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে জেলাশাসককে রিপোর্ট পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরসভায় বিরোধী সিপিএমের কাউন্সিলার প্রদীপ দে অভিযোগ করেছেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া সরকারি রীতি অনুসারে হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এ ব্যাপারে সরব হলেও তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরবোর্ড কোনো পদক্ষেপই করছে না। পুরসভায় কংগ্রেস নেতা বিমল পালচৌধুরি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরবোর্ড একের পর এক অনিয়ম করে চলেছে। টেন্ডারের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

- Advertisement -

জলপাইগুড়ি পুরসভার প্রধান মোহন বসু বলেন, টেন্ডারের বিষয়ে নবান্নের তদন্তের কোনো খবর তাঁর জানা নেই। পুরসভা প্রতিটি টেন্ডার সরকারি বিধি অনুসারে করেছে।