দলীয় কর্মীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত বিজেপির যুব মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক

621
ফাইল ছবি।

জলপাইগুড়ি: ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মিঠু দাসের বিরুদ্ধে মদ খাইয়ে এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। বিজেপির সক্রিয় কর্মী ওই মহিলা জলপাইগুড়ি শিরিষতলার বাসিন্দা। জলপাইগুড়ি মহিলা থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মহিলা থানায় মিঠু দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের কেস রুজু হয়েছে। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অভিষেক মোদি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট ধারায় জলপাইগুড়ি মহিলা থানায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্ত গা ঢাকা দিয়েছেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চালাচ্ছে।

আলিপুরদুয়ারের ভাটিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মিঠু দাস পেশায়  প্রাথমিক শিক্ষক। সাংগঠনিক সূত্রেই শিরিষতলার বাসিন্দা ওই মহিলা কর্মীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। দলের বিভিন্ন ফোরামে ওই মহিলা তাঁকে ধর্ষণ করার অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে তিনি বলেছেন, দলীয় স্তর থেকে কোনও ব্যবস্থা গৃহীত না হওয়ায় তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ঠান্ডা পানীয়র সঙ্গে মদ মিশিযে তাঁকে খাওয়ান মিঠু দাস। মদ খাওয়ানোর পর তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্ত নেতার তিনি কঠোর শাস্তি চান। প্রায় এক বছর আগের এই ঘটনার পর তিনি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন। তা সত্ত্বেও দলের নেতারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে মহিলা তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

- Advertisement -

মিঠু দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলা নেতত্ব বিব্রত। দলের নীচুতলার কর্মী থেকে দুই জেলা নেতত্ব বিষয়টি সম্পর্কে জানেন। বিজেপির আলিপুরদুযার জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, ’মিঠু দাস প্রদেশস্তরের নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করবে রাজ্য নেতত্ব। আমরা বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি। পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশও অভিযোগ তদন্ত করছে।’ দলের সভাপতি বাপি গোস্বামী এই ইশ্যুতে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। বাপিবাবু জানান, তাঁর কাছে অভিযোগ এলে তিনি সাংগঠনিকস্তরে আলোচনা করে দলীয় সংবিধান অনুসারে পদক্ষেপ করবেন।

জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নির্মল ঘোষদস্তিদার বলেন, ’অভিযুক্ত বিজেপির যুব নেতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়া প্রয়োজন। অভিযুক্ত নেতা একজন শিক্ষক। মুখে নীতির কথা বলে মহিলার সম্মানহানিতে অভিযুক্ত মিঠু দাস।’ সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য প্রদীপ দে বলেন, ’অভিযোগ গুরুতর। দলের মহিলা কর্মী বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। অথচ বিজেপি নেতত্ব সাংগঠনিক স্তরে কোনও পদক্ষেপ করছেন না।’

তণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলার কনভেনার চন্দন ভৌমিক বলেন, ’দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির এক শ্রেণির নেতা তাঁদের দলের মহিলা নেত্রী এবং কর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করছেন। আলিপুরদুয়ারের অভিযুক্ত নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।’