শিলিগুড়ি, ২০ ফেব্রুযারিঃ কোলস্টেরল কম এবং কযেটি ক্ষেত্রে ক্যান্সার প্রতিষেধকও। এমন পুষ্টিগুনের জন্যই এ রাজ্যেও কদর বাড়ছে কালীমাসি বা কনড়নাথের। কালীমাসির চাষে জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকারও। দক্ষিণবঙ্গের পর উত্তরবঙ্গেও আতমা প্রকল্পে এই মুরগির পালন শুরু হল খড়িবাড়িতে। শিলিগুড়িতে আতমা প্রকল্পের দায়ত্বে থাকা মহকুমা সহ কৃষি অধিকর্তা সোমনাথ শীল বলেন, ‘বিভিন্ন রোগ প্রতিষেধক হওয়াতেই খামারিদের কালীমাসি চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্রয়লারের পরিবর্তে এই চাষের ক্ষেত্রে উৎসাহ বাড়বে বলে আমরা আশাবাদি।’

কুচকুচে কালো হওয়ায় প্রচুর পরিমান অ্যান্থো সায়ানিন রযেছে এদের মাংসে। যা ক্যান্সারের প্রতিষেধক। পাশাপাশি, কোলস্টেরল কম থাকায় কালীমাসির মাংস বাত এবং হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রে উপযোগী। এই তথ্য গবেষণায় উঠে আসায়কনড়নাথ চাষের ক্ষেত্রে উদ্যোগী হয়ে উঠেছে রাজ্যের প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তর। ইতিমধ্যে দক্ষিণবঙ্গের নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগণায বিক্ষিপ্ত ভাবে চাষ হচ্ছে। ৮০০ টাকা কেজি দরে কিছু দিন আগে নদীয়াতে মাংসও বিক্রিও হয়েছে। এই প্রজাতির এক কেজির মুরগি পালনের ক্ষেত্রে ২৫০ টাকা খরচ হওয়ার পাশাপাশি মূলত এখানে সেই অর্থে কনড়নাথের চাষ না হওয়া এবং ছানা না পাওয়া যাওয়ায় এমন চড়া দাম। তাই রাজ্যের প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতর এই মুরগি চাষের প্রসার ঘটাতে চাইছে যাতে ভবিষ্যতে দেশি মুরগির দামে কনড়নাথ বা কালীমাসির মাংস বিক্রি করা সম্ভব হয়। এই লক্ষ্যে উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে বেছে নেওয়া হয়েছে শিলিগুড়ি মহকুমার খড়িবাড়িকে। সোমবার ব্লকের তিনজন মুরগি পালককে কনড়নাথের ছানা দেওযা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে বেছে নেওযা হয়েছে আরও দুজনকে। আতমা প্রকল্পে শিলিগুড়িতে কালীমাসির চাষের জন্য পুনে থেকে ১৫০টি ছানা নিযে আসা হয়েছে। খড়িবাড়ির বিডিও যোগেশচন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘কালীমাসির চাষে এখানকার খামারিদের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে উপযোগী হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহও দেখা দেবে। চাষের ক্ষেত্রে আমরা সবরকম সহযোগীতা করছি। প্রসঙ্গত, কালীমাসি বা কনড়নাথের চাষ প্রথম শুরু হয মধ্যপ্রদেশে। জিওগ্রাফিক্যাল আইডেনটিটি (জিআই) পেয়েছে রাজ্যটি। বর্তমানে ব্যাপক ভাবে এর চাষ হচ্ছে অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্রিশগড় এবং তামিলনাড়ুতে।