তৃণমূল সরকারের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে: দিলীপ ঘোষ

209

কলকাতা: রাজ্য সরকারের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে বলেই পুলিশ দিয়ে বিজেপিকে আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রবিবার নিজের ভাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা পুরসভার বর্তমান প্রশাসনিক প্রধান ফিরহাদ হাকিমকেও কঠাক্ষ করেন। দিলীপ ঘোষ বলেন, যিনি রাজ্যের মধ্যেই মিনি পাকিস্তান দেখতে পান, তিনি আবার বাংলার কথা ভাববেন কি করে? সন্ত্রাসবাদীদের মতো শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীরা কথা বলছেন, কাজ করছেন। যার ব্যতিক্রম ফিরহাদ বাবু নন।

এদিন সকালে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, বিজেপি হল সন্ত্রাসবাদী। ওরা মানুষ খুন করতে পারে। বাংলার উন্নয়ন ওদের পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলার উন্নয়ন যিনি করেছেন বা করতে পারেন তিনি হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  এবিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, যারা জেলায় জেলায় বোমা বন্দুকের কারখানা বানাচ্ছে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়াচ্ছে, পাকিস্তানের দালালি করছে ,তাঁরা কি করে বিজেপিকে উগ্রপন্থী বলে তা বুঝতে পারছি না।

- Advertisement -

সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে কলকাতার তালতলা থানায় বিজেপি মহিলা মোর্চার সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পলের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ বাবু বলেন, সিভিক ভলেন্টিয়াররা তৃণমূলের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। তাঁরা ও তাঁদের দলের কর্মীরা মহিলা-পুরুষ নির্বিচারে গায়ে হাত তুলছে। এদেরকে চিনে রাখা হচ্ছে। যথাসময়ে যোগ্য জবাব দেওয়া হবে বলেও দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন।

একই সঙ্গে বলেন, যাঁরা বিজেপি কর্মীদের খুন করছে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, তাঁদের  বিজেপি কোনও দিন ফুল চন্দন দিয়ে পুজো করবে না। তবে তৃণমূলের মত মৃত্যুর বন্যা বইয়ে দেবেন না। যা  করার তা করবেন আইন মোতাবেক।

আম পান পরবর্তী ত্রাণ নিয়ে রাজ্যের একাধিক জায়গার বিক্ষোভ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, কেন্দ্রের দেওয়া অনুদানের টাকা শাসকদলের নেতা,মন্ত্রী সহ পঞ্চায়েত প্রধানেরা লুট করছে। অনেক জায়গাতেই মহিলা পঞ্চায়েত প্রধান তাঁর স্বামী, ননদ সহ  পরিবারের একাধিক সদস্যর নামে টাকা তুলে নিয়েছেন। শুধু তাই নয় প্রত্যেকের একাউন্টে এমএলএ, মন্ত্রী ও নেতাদের ফোন নাম্বার দেওয়া আছে। যাতে তাদের ব্যাংকে টাকা ঢুকলেই কাটমানি তাঁরা পেয়ে যান বলে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন।

দিলীপ ঘোষের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন বলে সম্প্রতি  মন্তব্য করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ও রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এ বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বিমান বাবুর হাতে অঢেল সময় রয়েছে। তাই তিনি চিকিৎসা করাতে পারেন। আর জ্যোতিপ্রিয়বাবু খাদ্য দপ্তরে টাকা খেয়ে খেয়ে পাগল হয়ে গেছেন। একই সঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ধন্যব অদ জানিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, এরাজ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে,  তা দেরিতে হলেও জ্যোতিপ্রিয়বাবু বুঝতে পেরেছেন।  তাই দিল্লিতে যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে যাবেন জোতিপ্রিয় মল্লিককে। সেখানে জোতিপ্রিয় মল্লিকের চিকিৎসা করিয়ে, ব্রেন ওয়াশ করে, তবেই রাজ্যে ফেরত পাঠাবেন  বলে দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন।”

যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যুবরাজ এখন কোথায় ? করোনার জেরে গা ঢাকা দিয়েছেন। সম্প্রতি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এক দিনই তাঁকে বাড়ির বারান্দায় দেখা গেছে।” একই সঙ্গে বলেন, বাংলার যুব সমাজএরকম যুবরাজের কথায় আকর্ষিত হবেন এমন ভাবটা পাগলামি হবে। কারণ বাংলার মানুষ জেনে গেছেন তৃণমূল কংগ্রেস লুট করে বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করেছে। তাই বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আর কেউ গাঁটছড়া বাঁধতে রাজি নন।