এতদিনেও অধিগ্রহণ হল না আব্বাসউদ্দিনের ভিটে

692

চাঁদকুমার বড়াল, বলরামপুর : মাত্র কয়েক লক্ষ টাকার জন্য প্রবাদপ্রতিম সংগীতশিল্পী ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাসউদ্দিনের বাড়ি ও সংগীতচর্চা কেন্দ্র অধিগ্রহণ করতে পারেনি রাজ্য সরকার। এই চর্চাকেন্দ্রে এসে একসময় কাজী নজরুল ইসলাম সংগীতচর্চা করেছেন, গান লিখেছেন। বাম আমল থেকে শুরু করে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের আমলেও ভাওয়াইয়া সম্রাটের স্মৃতির প্রতি অবহেলার ছবিটা পালটায়নি। বর্তমানে কোচবিহারের বলরামপুর গ্রামে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে আব্বাসউদ্দিনের বাড়ি ও সংগীতচর্চা কেন্দ্র।

কোচবিহার শহর থেকে মেরেকেটে ২০ কিলোমিটার দূরে বলরামপুর গ্রাম। এখানেই একসময় থাকতেন আব্বাসউদ্দিন আহমেদ। ১৯০১ সালে তিনি এখানেই জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জাদুকণ্ঠে পল্লিগীতি, ভাওয়াইয়া, গজল লক্ষ লক্ষ শ্রোতার মন ভরিয়ে দেয় আজও। তবে ভাওয়াইয়াতেই তিনি গানের দুনিয়াকে অন্যমাত্রায় পেঁছে দেন। ভাওয়াইয়া সম্রাট ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল। সেই অনুরাগ থেকেই তাঁর সংগীতচর্চা সাধনার জায়গায় চলে যায়। একসময় তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে গানের দুনিয়ায়।

- Advertisement -

প্রবাদপ্রতিম এই শিল্পীর জন্মভিটে, সংগীতচর্চা কেন্দ্র কিন্তু আজও সরকারি সংরক্ষণের আওতায় আসেনি। তাঁর বাড়ি এবং সংগীতচর্চা কেন্দ্র- দুটির অবস্থাই ভগ্নপ্রায়। রবিবার বলরামপুরে গিয়ে দেখা গেল, সংগীতচর্চা কেন্দ্রটি যে কোনওদিন ভেঙে পড়বে। শিল্পীর বাড়িটিও ঝোপঝাড়-জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বাড়ি ও সংগীতচর্চা কেন্দ্র যে জমিতে রয়েছে তার মালিক স্থানীয় এক পরিবার। তারা নিজেরা সেই বাড়ি ও সংগীতচর্চা কেন্দ্রটিকে আগের মতোই রেখে দিয়েছে। তবে কতদিন তা থাকবে, তা নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। ওই পরিবারের চিরঞ্জিত সরকার বলেন, জমি কেনার জন্য বেশ কয়েকবার অনেকেই যোগাযোগ করেছেন। এমনকি বাম আমলে জেলা শাসকের দপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে সমস্ত বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমরা বলেছি, ওখানে প্রায় আট কাঠা জমি আছে। জমির বাজারমূল্য যা রয়েছে তা দিলেই আমরা দিয়ে দেব। পরে অবশ্য আর কিছুই হয়নি।

কোচবিহারের বর্তমান সময়ে ভাওয়াইয়া সংগীতশিল্পী নজরুল ইসলাম বলেন, আমি নিজে বেশ কয়েকবার এই সম্পদ, শিল্পীর বাড়ি, সংগীতচর্চা কেন্দ্র রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। কত ইতিহাস রয়েছে এই জিনিসগুলোর। অথচ কিছুই হল না। তাঁর আক্ষেপ, প্রায় দুবছর আগে আট কাঠা জমি কেনার জন্য কমিটি করা হয়েছিল। তবে জমির দাম আট লক্ষ টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। সরকারের কাছে আবেদন রাখছি, জমিটি নিয়ে সংগীতসম্রাটের বাড়ি ও সংগীতচর্চা কেন্দ্র সংরক্ষণ করা হোক।

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও কাজটি করা যায়নি। কালীপুজোর পরেই যাঁদের অধীনে জমি রয়েছে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে আব্বাসউদ্দিনের বাড়ি ও সংগীতচর্চা কেন্দ্র অধিগ্রহণ করা হবে। তারপর সংস্কার করে তা আগামী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে। সমস্ত রকম উদ্যোগ নেওয়া হবে অধিগ্রহণের জন্য।