আপার প্রাইমারিতে শিক্ষক নিয়োগে ব্যর্থ রাজ্য

432

সপ্তর্ষি সরকার,  ধূপগুড়ি : স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) তথা রাজ্য শিক্ষা দপ্তর দীর্ঘ সাতবছরেও এ রাজ্যের স্কুলগুলিতে আপার প্রাইমারি অর্থাৎ ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগ করতে পারেনি। উপরন্তু দীর্ঘ সাতবছরে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে মামলার পাহাড় জমেছে। ফলে একদিকে এসএসসি ও শিক্ষা দপ্তর যেমন বিচারাধীন বিষয় বলে দায় সারতে চাইছে তেমনই মেধাতালিকায় নাম থাকা হবু শিক্ষক চাকরিপ্রার্থীরা কমিশন ও রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের দিকেই অভিয়োগের আঙুল তুলছেন। সব মিলিয়ে যা পরিস্থিতি তাতে মুখে সব পক্ষই আশার কথা শোনালেও খুব তাড়াতাড়ি কোর্টকাছারি আর সরকারি সিদ্ধান্তের বাধা টপকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে কোনও পক্ষই মনে করছে না। গোদের উপর বিষফোড়ার মতো করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউন প্রক্রিয়া যুক্ত হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের আশঙ্কা, লকডাউনের পর পুজো ও বছর ঘুরতেই বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে উঠলে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বিশবাঁও জলে চলে যেতেই পারে। আর যদি তাই হয় তবে সমস্যা যে আরও জটিলতর হবে তা বুঝেই লকডাউনের মধ্যেও মেধাতালিকায় নাম থাকা চাকরিপ্রার্থীরা জোর আন্দোলনে নেমেছেন।

জলপাইগুড়ি জেলা থেকে মেধাতালিকায় নাম থাকা চাকরিপ্রার্থী শৈলেন রায় বলেন, কোর্ট, সরকার বা কমিশনের সঙ্গে কোনও জটিলতাই আমরা চাইছি না। শুধু দীর্ঘ সাতবছর ধরে আমরা যে বঞ্চনার শিকার তা দ্রুত শেষের পাশাপাশি আমরা নিয়োগপত্র চাইছি। তবে দুঃখের হলেও সত্যি পুরো বিষয়টির সমাধানের ক্ষেত্রে কমিশন ও শিক্ষা দপ্তরের আরও একটু সহানুভূতিশীল হওয়ার প্রয়োজন ছিল। তাহলে আমাদের মতো শিক্ষিত বেকার যুবকরা এভাবে এত বছর ধরে বঞ্চিত হতাম না। সাতবছর ধরে লাগাতার আন্দোলনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ প্রাথমিক চাকরিপ্রার্থী মঞ্চের উত্তরবঙ্গ আহ্বায়ক সুশান্ত ঘোষ বলেন, যে ২৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী ঝুলে রয়েছেন তার মধ্যে আমরা উত্তরবঙ্গ থেকে প্রায় ১০ হাজার রয়েছি। এত বছর যাবৎ যা ঘটনাক্রম ও পরিস্থিতি তাতে এটা পরিষ্কার যে, কমিশন তথা শিক্ষা দপ্তর সামান্যতম সহানুভূতি দেখালেই বিষয়টি মিটে যায়। আমরা রাজ্য সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বহুবার দরবার করলেও কার্যত কোনও সমাধান পাইনি। আমাদের যা পরিস্থিতি তাতে আমরা শুধু দ্রুত নিয়োগ চাইছি। বিচারাধীন বিষয় বলে এ বিষয়ে কমিশন বা শিক্ষা দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা মুখ খুলতে চাননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্য শিক্ষা প্রশাসনের এক আধিকারিক একটি সমস্যার বিষয়ে জানিয়েছেন। বর্তমানের বেতনক্রম অনুসারে আপার প্রাইমারিতে নিয়োগ হওয়া শিক্ষকরা শুরুতেই মাসে ৩৮,৩০০ টাকার মতো বেতন পাবেন। সেই হিসাবে ঘোষিত শূন্যপদে নিয়োগ হলে সরকারের উপর বছরে ৬৬০ কোটি টাকার আর্থিক বোঝা চাপবে। করোনা পরিস্থিতির জেরে আর্থিক সমস্যায় থাকা রাজ্য সরকারের সমস্যা এতে বাড়বে বলেই রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরা মনে করছেন। তবে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও আগামী বিধানসভা ভোটের আগে বর্তমান চাকরিপ্রার্থী এবং রাজ্যের বিরাট সংখ্যক প্রশিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীর কথা মাথায় রেখে রাজ্যের শাসকদলের রাজ্য নেতাদের একাংশ এ বিষয়ে সদর্থক পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

- Advertisement -

(চলবে)