মৃত্যু রুখতে কোমরবিডিটির চিকিৎসায় গুরুত্ব স্বাস্থ্য ভবনের

201
প্রতীকী ছবি- ছবির সঙ্গে প্রতিবেদনের কোন সম্পর্ক নেই

কলকাতা : রাজ্যে করোনা চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বা রেমডেসিভিরের মতো ওষুধ ব্যবহার করতে গেলে সংশ্লিষ্ট রোগীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করল রাজ্য সরকার। সম্প্রতি করোনা চিকিৎসায় কোমরবিডিটি বা অন্যান্য গুরুতর রোগের চিকিৎসার ব্যাপারে নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য ভবন। তাতেই একথা বলা হয়েছে। চিকিৎসার ওই নয়া বিধিতে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিঃসন্দেহে উপকারে আসে। কিন্তু এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। দেখা গিয়েছে, মৃত্যুর হার রোধে বা সুস্থ করায় এই ওষুধের কোনও কার্যকারিতা নেই। রেমডেসিভির শুধুমাত্র আপৎকালীন অবস্থায় ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ, এর অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। যেমন রক্তাল্পতা, লিভারের অস্বাভাবিক কাজ, কিডনির ব্যাপক ক্ষতি ইত্যাদি। এর জন্য রোগীকে ওই ওষুধ দেওয়ার আগে তাঁর লিখিত অনুমতি আবশ্যিক। টোসিলিজুমাবের ক্ষেত্রে গাইডলাইনে বেশ কিছু সতর্কতা নিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে তাঁর ডোজ নিরূপণ করতে বলা হয়েছে।

নতুন চিকিৎসাবিধিতে বলা হয়েছে, স্টেরয়েড ব্যবহারে মৃত্যুর হার ৩৩ শতাংশ কমে যাচ্ছে। যেসব রোগীর অক্সিজেন চলছে, তাঁদের ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ২০ শতাংশ মৃত্যুহার কমিয়ে দিচ্ছে। মাঝারি উপসর্গে করোনা রোগীদের যদি অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ে এবং সংক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তাহলে ভর্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের মিথাইল প্রেডনিসোলন ও ডেক্সামিথাজোন দেওয়া দরকার। নয়া বিধিতে কোভিড জয়ী রোগীদের প্লাজমা ব্যবহারেও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, মাঝারি ধরনের সংক্রমণযুক্ত রোগীদের অবস্থার উন্নতি যদি না হয় বা অক্সিজেনের চাহিদা স্টেরয়েড দেওয়া সত্ত্বেও বাড়তে থাকে, তাহলে তাঁদের প্লাজমা দেওয়া যেতে পারে। তবে এই প্লাজমা শুধুমাত্র ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া ও আইসিএমআর অনুমোদিত কেন্দ্রগুলি থেকেই নেওয়া উচিত।

- Advertisement -

করোনা চিকিৎসার জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি কয়েকটি করোনা চিকিৎসার কেন্দ্র ঘুরে কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি খুঁজে পান। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার এই নয়া চিকিৎসাবিধি রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে পাঠানো হয়েছে। রাজ্যে করোনায় মৃত্যু সংখ্যা আগেই দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। দেখা গিয়েছে, এর মধ্যে ৮৬.৫ শতাংশেরই অন্যান্য কঠিন রোগ বা কোমরবিডিটি ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই স্বাস্থ্য দপ্তর এই কোমরবিডিটি চিকিৎসায় স্টেরয়েড, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, রেমডেসিভির বা করোনা জয়ীদের প্লাজমা ব্যবহারের ব্যাপারে গাইডলাইন প্রকাশ করে। গাইডলাইনে বলা হয়েছে, হাইপোক্সিয়া বা শ্বাসপ্রশ্বাসের তীব্র সমস্যা ও একসঙ্গে নানা অঙ্গের সমস্যা তৈরি হওয়া আটকাতে পারলেই অনেক করোনা রোগীর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই পর্যন্ত করোনায় মাত্র ৬৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩১ জুলাই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়ায় ১,৫৮১। অর্থাৎ জুলাই মাসে মৃত্যু হয় ৮৯৮ জনের। মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে মোট মৃত্যুর চেয়ে এই সংখ্যা বেশি। দেখা গিয়েছে, এর মধ্যে ৮৪৭ জনেরই কোমরবিডিটি ছিল। মাত্র ৫১ জন কোনও কোমরবিডিটি ছাড়া মারা গিয়েছেন। জুলাই মাসে ৩৫,৮৪৬ জন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। দেখা গিয়েছে, কোমরবিডিটি না থাকা করোনা রোগীদের মৃত্যুর হারও অনেক কমে গিয়েছে। ১ জুলাইয়ের হিসেব অনুয়াযী, কোমরবিডিটি ছাড়া করোনায় মৃত্যুর হার ছিল ২৩.৩ শতাংশ। সেই সংখ্যা ১৩.৫ শতাংশে নেমেছে। স্বাস্থ্য ভবনের কর্তারা বলছেন, কোমরবিডিটির চিকিৎসায় বেশি করে নজর দিলেই করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমিয়ে আনা যাবে।