আলুর দাম কমাতে হিমঘর খালি করার নির্দেশ সরকারের

1054

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : রাজ্য সরকার সোমবার ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব হিমঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়ায় আলুর দাম কমার আশা দেখা দিয়েছে। কিছুদিন ধরে আলুর দাম অগ্নিমূল্য হওয়ায় রীতিমতো বিপাকে সাধারণ মানুষ। সরকার বারবার হুঁশিয়ারি দেওয়া সত্ত্বেও ৪০-৪৫ টাকা কিলো দামে আলু বিকিয়েছে। সরকারিভাবে সুফল বাংলার বিপণিতে ২৫ টাকা কিলো দরে তা বিক্রি হলেও চাহিদার তুলনায় নগণ্য বলা যায়।

সূত্রের খবর, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সরকার সব হিমঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়ায় আলুর দাম কমবে বলে সব মহলের আশা। শাসকদলের বহু নেতা হিমঘরে রাখা আলুর বন্ড কিনে তা মজুত রাখায় দাম কমছে না বলে বিরোধীরা, বিশেষ করে বিজেপি অভিযোগ করেছে। আলুর দাম নিয়ে সরগরম রাজ্যে সরকার আচমকা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে হিমঘরগুলি খালি করার নির্দেশ দেওয়ায় বিভিন্ন মহলে বিস্ময় দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এর ফলে সাময়িকভাবে আলুর দাম কিছু কমলেও স্থায়ী না-ও হতে পারে। যদিও সরকারের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে গঠিত টাস্ক ফোর্স সদস্য রবীন্দ্রনাথ কোলের আশা, আলুর দাম এবার কমের দিকে যাবে। রাজ্যে এবার ১ কোটি ৫ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উত্পাদন হয়েছে। রাজ্যের চাহিদা ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন। বীজের জন্য লাগে ৫-৭ লক্ষ মেট্রিক টন। রাজ্যে আলুর ফলন ভালো হলেও অন্য রাজ্যে তা চলে যাওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে রবীন্দ্রনাথ কোলে জানান। এর জন্য কেন্দ্রীয় নীতিকে দায়ী করেন তিনি।

- Advertisement -

রবীন্দ্রনাথ কোলে জানান, অত্যাবশ্যক পণ্যর তালিকা থেকে আলু তুলে নেওয়ায় উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওডিশা ইত্যাদি রাজ্যে তা চলে যাচ্ছে। ওখানে আলুর দাম আরও বেশি। আইনি হাতিয়ার না থাকায় রাজ্য সরকার এতে কোনও বাধা দিতে পারছে না। ফলে রাজ্যের বাজারেও আলুর দাম অগ্নিমূল্য হয়েছে। তবে সরকার নিজেদের ও হিমঘরের আলু ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় আলুর দাম কমবে বলে তাঁদের আশা। মুখ্যমন্ত্রীও সব বাজারে ২৫ টাকা কিলো দরে আলু বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন। করোনা আবহে টাস্ক ফোর্সের বৈঠকও এখন অনিয়মিত। আলুর এমন আগুনছোঁয়া দামে আমজনতা যে খুবই সমস্যায় তা স্বীকার করেন রবীন্দ্রনাথ কোলে। সরকার যা ব্যবস্থা নিচ্ছে, এরপর কী হয় দেখা যাক বলে জানান। একুশের নির্বাচনের আগে আলুর দাম নিয়ে জেরবার রাজ্য সরকারও। কীভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে বলে জানা যায়।