তিনধারিয়া রেলওয়ে হাসপাতালকে টাকা দিচ্ছে না রাজ্য

সানি সরকার, তিনধারিয়া : রাজ্যের সিদ্ধান্তে বিপাকে পাহাড়ের একাধিক গ্রাম। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য পরিসেবা নিয়ে অনিশ্চয়তায় কয়েকহাজার গ্রামবাসী। তিনধারিয়া রেলওয়ে হাসপাতাল এখন পর্যন্ত না ফেরালেও, নিখরচায় কতদিন চিকিৎসা পরিসেবা বহাল থাকবে তা বুঝতে পারছেন না রংটং, বাঘমারা সহ বেশ কয়েটি গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের চিকিৎসা পরিসেবার জন্য তিনধারিয়া রেলওয়ে হাসপাতালকে দীর্ঘদিন ধরেই টাকা দিত রাজ্য। কিন্তু হঠাৎ তা বন্ধ করে দিয়েছে। আর এতেই বিপাকে পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এখানকার সাধারণ মানুষ। তবে রেলকে কেন টাকা দেব, প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এটাই রাজ্য সরকারের আসল মুখ মন্তব্য করে যথারীতি রাজনীতি টেনে এনেছেন দার্জিলিংয়ে সাংসদ বিজেপির রাজু বিস্ট।

দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা পরিসেবা দেওয়ার জন্য রোগীপিছু রেলকে টাকা দিত রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। কিন্তু সেই টাকা এখন আর পাচ্ছে না কার্সিয়াং মহকুমার তিনধারিয়া রেলওয়ে হাসপাতাল। তবে চিকিৎসা পরিসেবা এখন পর্যন্ত বহাল রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তিনধারিয়া এবং সংলগ্ন এলাকায় রাজ্যের কোনো হাসপাতাল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রেলকে টাকা দিচ্ছিল রাজ্য সরকার। প্রত্যেক মাসে কতজন রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন এবং তাঁদের কী কী ওষুধ দেওয়া হয়েছে এই সংক্রান্ত যাবতীয় নথি তিনধারিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তৈরি করে তা পাঠিয়ে দিত নিউ জলপাইগুড়ি রেলওয়ে হাসপাতালে। এখান থেকে তা যেত রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরে। রাজ্য টাকা দেওয়া বন্ধ করায় এখন আর বিল তৈরি করা হয় না।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, গয়াবাড়িতে রাজ্যের তরফে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হওয়ার জেরেই রাজ্য সরকারের তরফে টাকা দেওয়া বন্ধ হয়েছে। রাজ্য যখন স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করেছে তখন কেন রেলকে টাকা দেওয়া হবে, প্রশ্ন স্বাস্থ্যকর্তাদের। তবে গয়াবাড়ি ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় তিনধারিয়া, রংটং, বাঘমারা, তিনমাইল, রাজবাড়ি সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা চিকিৎসার জন্য সেখানে যান না। তাঁরা ভিড় জমান তিনধারিয়া রেলওয়ে হাসপাতালেই। প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ জন সাধারণ মানুষের চিকিৎসা করতে হয় বলে তিনধারিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। ২০ শয্যার রেলওয়ে হাসপাতালটিতে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি এক্সরে, ইসিজি সহ বেশ কয়েকটি পরিসেবা রয়েছে। ফলে কেন তাঁরা গয়াবাড়ি যাবেন, প্রশ্ন গ্রামগুলির বাসিন্দাদের।

রংটংয়ে জ্যোতি প্রসাদ বলেন, অনেকটা দূরে গয়াবাড়ি হাসপাতাল। তাছাড়া সেখানে তেমনকিছুই নেই। তাই সেখানে যাই না। দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পর কেন তাঁরা নতুন জায়গায় যাবেন, প্রশ্ন তুলেছেন তিনমাইলের বিমলা সুব্বা, বাঘমারার সুরেশ ইয়ালমোদের মতো অনেকেই। তিনধারিয়া রেলওয়ে হাসপাতালের সুপার ই আর লামা বলেন, চিকিৎসা জরুরি পরিসেবা এবং এরসঙ্গে মানবিকতা জড়িয়ে রয়েছে, তাই গ্রামবাসীদের আমরা পরিসেবা দিচ্ছি। কিন্তু নিখরচায় কতদিন রেল চিকিৎসা পরিসেবা দেবে তা নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করেছেন অনেকেই। তিনধারিয়ার রমেশ বিশ্বশর্মা, রংটংয়ে রাধা গুরুংদের মতো বহু গ্রামবাসীর বক্তব্য, টাকা ছাড়া বছরের পর বছর রেল নিশ্চয় চিকিৎসা করবে না।

এ প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, রেলকে কেন টাকা দেওয়া হবে? এতদিন কেন টাকা দেওয়া হত এবং এই সংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ট বলেন, কিছুদিন আগে রেলওয়ে হাসপাতালটি পরিদর্শন করার সময়ই রাজ্য সরকারের টাকা বন্ধের বিষয়টি জানতে পারি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিসেবা বহাল রাখার জন্য। তৃণমূল সরকার কতটা অমানবিক এই ঘটনায় তা স্পষ্ট।