যক্ষ্মার পরীক্ষা নিয়ে জেলাগুলিকে সতর্ক করল রাজ্য

349

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জেরে বর্তমানে গোটা বিশ্বে টালমাটাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরেকটি মারাত্মক রোগ যক্ষ্মার পরীক্ষানিরীক্ষা নিয়ে যাতে কোনও ঢিলেমি না পড়ে সেজন্য সতর্ক থাকার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য ভবন জেলাগুলিকে চিঠি দিয়েছে। সন্দেহজনক যক্ষ্মারোগীদের কফের নমুনা পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠাতে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহণ সমস্যার সমাধানে কী করতে হবে তা জেলাগুলিকে জানানো হয়েছে। জলপাইগুড়ির এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, সরকারি নির্দেশিকা মেনেই এই জেলায় কাজ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, বর্তমানে হাসপাতালে রোগী আসা কমে গিয়েছে। সবাই বর্তমানে করোনা নিয়ে বেশি ব্যস্ত। পরিস্থিতি বর্তমানে এমন হলেও নতুন যক্ষ্মারোগীদের খুঁজে বের করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কারণ হিসাবে সরকারি তালিকায় থাকা প্রথম ১০টি রোগের মধ্যে যক্ষ্মাও রয়েছে। যদি চিহ্নিত যক্ষ্মারোগীর অন্য কোনও কারণে মৃত্যু হয় তবুও তা যক্ষ্মায় বলেই ধরা হয়। তাই কফের নমুনা পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠাতে কোভিড সংক্রান্ত কাজে যে সমস্ত সরকারি গাড়ি রয়েছে বা জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মেডিকেল মোবাইল ইউনিট বা ওষুধ বিরতণের পরিবহণ ব্যবস্থাকেও ব্যবহার করা যেতে পারে বলে স্বাস্থ্য ভবনের জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূলকরণ সেল জেলাগুলিকে জানিয়েছে। প্রয়োজনে সরকারি বা বাজারদরে বেসরকারি গাড়িভাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ডেজিগনেটেড মাইক্রোস্কোপি সেন্টার (ডিএমসি)-তে সন্দেহজনক যক্ষ্মারোগীদের কফের নমুনা পরীক্ষা হয়ে থাকে। সমস্ত গ্রামীণ হাসপাতাল বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এধরনের কেন্দ্র রয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার এধরনের ৩১টি কেন্দ্র রয়েছে। যাঁদের রিপোর্ট পজিটিভ মেলে তাঁদের সরকারিভাবে বিনামূল্যের ওষুধ চালুর পর ওই রোগী ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মায় (এমডিআর) আক্রান্ত কি না তা জানতে ইউনিভার্সাল ড্রাগ সাসপেক্টিবিলিটি টেস্ট (ইউডিএসি)-এর জন্য সিবি নাট যন্ত্রের সাহায্য নেওয়া হয়। জলপাইগুড়ি জেলায় রানি অশ্রুমতি টিবি হাসপাতাল ও মাল সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে এই যন্ত্র রয়েছে। এরপরও যদি পরবর্তী পর্যায়ে আরও কিছু পরীক্ষানিরীক্ষার প্রয়োজন হয় তবে জলপাইগুড়ির ক্ষেত্রে কফের নমুনা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। নমুনা স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় এই কাজ যাতে আটকে না থাকে তা স্বাস্থ্য দপ্তর নিশ্চিত করতে চাইছে।

- Advertisement -

বর্তমানে যক্ষ্মারোগীদের চিকিৎসার প্রোটোকলে কিছু পরিবর্তন হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্তারা জানিয়েছেন, আগে যক্ষ্মা আক্রান্তদের সপ্তাহে তিনদিন করে দেওয়া হলেও বর্তমানে প্রতিদিনই ওষুধ দেওয়া হয়। এখন এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রোগীর এমডিআর যক্ষ্মা ধরা পড়লে সেই মোতাবেকও চিকিৎসা হয়। জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে ২০১৮ সালে ১৬১ জনের মৃত্যু হয়। পরের বছর সংখ্যাটি কমে ১১৭ হয়। অন্যদিকে, যক্ষ্মারোগীদের চিহ্নিতকরণে সংখ্যাও বেড়েছে। ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে জেলায় ৩,০৮৮ এবং ৩,৭৯৫ জনকে যক্ষ্মা চিহ্নিত করা হয়। ২০১৯ সালে যক্ষ্মা আক্রান্ত বলে যাঁদের চিহ্নিত করা হয় তার মধ্যে প্রায় ৩,২০০ জন এই জেলারই বাসিন্দা। মৃতদের বাদ দিলে বর্তমানে বাকিদের চিকিত্সা চলছে। অনেকে ইতিমধ্যে সুস্থও হয়েছেন। ২০২০ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে গতবারের তুলনায় জেলায় যক্ষ্মারোগীর সংখ্যা ১১৬ জন কমেছে। করোনার দাপট একটু কমলেই স্বাস্থ্য দপ্তর বছরের শেষ ছয় মাস যক্ষ্মার উপর ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যক্ষ্মার চিকিৎসায় রাজ্যের এই উদ্যোগকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন-এর মেন্টর গ্রুপের অন্যতম আহ্বায়ক মনোজ চক্রবর্তী সাধুবাদ জানিয়েছেন।