অনুপ্রবেশ রুখতে ব্যর্থ রাজ্য, অভিযোগ কেন্দ্রের

108

নয়াদিল্লি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবার রাজ্যসভায় এমনই অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে রাজ্য চরম দায়সারাভাবে কাজ করে থাকে। তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীদের মদতও দিচ্ছে রাজ্য।

বুধবার রাজ্যসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে তৃণমূল সাংসদ মানস ভুঁইয়া ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গত পাঁচ বছরে অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অনুপ্রবেশের নেপথ্যে যারা, তাদের শাস্তি দেওয়ার কথা কেন্দ্র ভাবছে কিনা, সে প্রশ্নও করেন তিনি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ চোরাচালান ও অনুপ্রবেশে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েক মাস আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বিএসএফের এক কমান্ডার। সেই ইস্যু উসকে কেন্দ্রকে খোঁচা দিতে চেয়েছিলেন মানস। যদিও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বল ঘুরিয়ে রাজ্যের কোর্টেই ফেলল কেন্দ্র।

- Advertisement -

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সর্বাধিক অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে। এই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রায় ৩১৯ কিমি নদীপথ ও দুর্গম অঞ্চলের জন্য অরক্ষিত। জানান, এই এলাকার মধ্যে ৬০ কিমি পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে যা আজও ঘেরা সম্ভব হয়নি। কারণ রাজ্যের সঙ্গে ৩৩টি জরুরি জমি অধিগ্রহণ প্রকল্প বকেয়া থাকায় সেই অঞ্চল ঘেরা সম্ভব হয়নি। রাই অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ না করায় প্রবল অসুবিধার মুখে পড়েছে কেন্দ্র। তিনি এও জানান, গত চার বছরে বিএসএফ-এর তরফে ৪৫০০ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে। ২০১৬-১৯ সালের মধ্যে এই সব অনুপ্রবেশকারীদের আটক করে তাদের রাজ্যের হাতে তুলে দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য যথাযথ কোনও পদক্ষেপ করতে পারেনি।

নিত্যানন্দ রাই পরিসংখ্যান তুলে জানান, ২০১৬-১৯ সালের মধ্যে বিএসএফ ২৫৪৮ অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে, সেখানে রাজ্যের তরফে মাত্র ২১০৪ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে ফৌজদারি মামলা। এর মধ্যে ১১৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করলেও তার মধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মাত্র ২১২ জন। কেন্দ্রের তরফে বারবার কড়া পদক্ষেপের দাবি জানানো হলেও রাজ্য তাতে কর্ণপাত করেনি। বিএসএফের কড়া নজরদারির জন্য ২০১৬ সালের তুলনায় ২০২০ সালে অনুপ্রবেশের সংখ্যা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু, তাঁর মত, রাজ্যের উচিত এই বিষয়ে আরও সক্রিয় হওয়া।