রাজ্য নেতাদের ভোটের রিপোর্ট ফাঁপানো, সতর্কবার্তা শার

367

দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া নিয়ে রাজ্য বিজেপি নেতারা প্রচণ্ড আশাবাদী হলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্টে তার প্রতিফলন নেই। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ নিয়ে রাজ্যের বিজেপি নেতারা যতটা আত্মবিশ্বাসী, তত ভালো ফল হবে না বলেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্ট। শনিবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা ফোনে রাজ্যের চার গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেছেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হবেন না। মানুষের কাছে আরও বিনয়ী হয়ে ভোট ভিক্ষা করুন। বেফাঁস মন্তব্য করা থেকে দূরে থাকতে বলেছেন নেতাদের। বিজেপি সূত্রে খবর, অমিত শার ফোনের পরই রাজ্যের গেরুয়া শিবিরের নেতারা নড়েচড়ে বসেছেন।

মূলত উত্তরবঙ্গের ৫৪টি, জঙ্গলমহল ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার আসনগুলির ওপরই বেশি ভরসা করেছিল রাজ্য বিজেপি। কিন্তু এখানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া যে সম্ভব নয়, তা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগের রিপোর্ট থেকেই অমিত শা জানতে পেরেছেন। গত লোকসভা ভোটের তুলনায় ভালো ফল করা দূরে থাক, গেরুয়া শিবিরের ঝুলিতে অনেক কম আসন যেতে পারে বলেই শা’র কাছে খবর।

- Advertisement -

বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণার অনেক আগে থেকেই এই রাজ্যে এবার বিজেপি সরকার গড়বে বলে অমিত শা এবং নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন। বিজেপি একা ২০০টির বেশি আসন পাবে বলেই অমিত শা আশা করেছিলেন। তারপর দলের বুথস্তর থেকে রাজ্য নেতারা এই দাবি করেই ভোটে লড়ছেন। কিন্তু রাজ্যে ম্যাজিক ফিগার পাওয়া আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সন্দেহ রয়েছে। তাই চতুর্থ দফার ভোট শেষ হওয়ার পরই দলের রাজ্যস্তরের চার শীর্ষনেতাকে ফোন করে সতর্ক করে দিয়েছেন শা। দ্রুত অবস্থা সামাল না দিলে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন যে অধরাই থেকে যাবে, তাও জানাতে ভোলেননি তিনি। অমিত শার ফোন পাওয়ার পরই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব তৎপর হয়ে ওঠে। শনিবার গভীর রাতেই তাঁরা এই নিয়ে একপ্রস্থ আলোচনা সেরেছেন।

কী বলেছেন অমিত শা? বিজেপি সূত্রে খবর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের জানিয়েছেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে অনেকেই বেফাঁস মন্তব্য করছেন। যা সাধারণ গ্রামের মানুষ ভালো চোখে দেখছেন না। তাছাড়া দলের কিছু নেতার আচরণও যে সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখছেন না, তাও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরামর্শ, আরও বিনয়ী হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট ভিক্ষা করতে হবে। ইতিমধ্যেই কিছু কিছু নেতার মধ্যে এমন দম্ভ চলে এসেছে যেন বিজেপি ক্ষমতায় এসে গিয়েছে। এই দম্ভের কারণেই তৃণমূলের কিছু নেতার প্রতি মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়েছে। তার ফলেই গত লোকসভা ভোটে রাজ্যে বিজেপির পক্ষে ভালো ভোট পড়েছিল। তাই এই আচরণ অবিলম্বে বদল করা দরকার। তিনি বলেছেন, কিছু নেতা যেভাবে বেফাঁস মন্তব্য করছেন, তাতে বিজেপি নেতাদের প্রতি মানুষের ভরসা কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি অবিলম্বে বদল করতে হবে। এমনকি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে রিপোর্ট না পাঠানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, অমিত শা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমাদের দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাঁর সঙ্গে ভোটের ব্যাপারে প্রতি মুহূর্তে আলোচনা চলছে। কিন্তু আলোচনার বিষয়বস্তু তো আর সংবাদমাধ্যমের কাছে বলা যায় না। আমাদের দল নীতি ও আদর্শ নিয়ে চলে। সেই নীতির বাইরে আমরা যাই না। যদিও রাজ্য বিজেপির এক নেতা স্বীকার করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যাওয়া রিপোর্ট যে অমূলক নয়, তা দলের অভ্যন্তরে অনেকেই স্বীকার করে নিয়েছেন। গত লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতে বিজেপি এগিয়েছিল। কিন্তু এবার এগিয়ে থাকা সব আসন ধরে রাখা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে দলের স্থানীয় নেতারা সংশয়ে আছেন। তাছাড়া জঙ্গলমহল ও অন্যান্য জেলায় যেসব আসনের ওপর ভরসা করে ২০০টির বেশি আসন পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তার কতগুলি বাস্তবে আসবে, তা নিয়ে ফের পর্যালোচনার প্রযোজন রয়েছে।