দৌড় ভুলে দিনমজুরি বালুরঘাটের পল্লবের

শিলাজিৎ সরকার, কলকাতা : বছর দেড়েক আগেও জাতীয় দলে সুযোগের স্বপ্ন দেখতেন। দৌড়ে পেছনে ফেলতে চেয়েছিলেন জীবনের সব সমস্যাকে। কিন্তু করোনার হানায় এখন অ্যাথলিট থেকে দিনমজুর হয়ে গিয়েছেন বালুরঘাটের পল্লব মালো।

বছর আঠারোর পল্লব বালুরঘাট ব্লকের গোপালবাটি-৯ গ্রাম পঞ্চায়েতের জোতগোপাল গ্রামের বাসিন্দা। জলপাইগুড়ি সাই সেন্টারের আবাসিক এই অ্যাথলিট ২০১৯ রাজ্য অনূর্ধ্ব-১৮ মিটে নজর কাড়েন। ১ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডে ৮০০ মিটার দৌড়ে রাজ্যস্তরে রেকর্ড করেন তিনি। সেই সূত্রে ডাক পান ভুবনেশ্বরের জাতীয় ক্যাম্পে। গতবছর ফেব্রুয়ারি থেকে মাস দুয়েক ক্যাম্প সেরে হস্টেলে ফেরার পরই দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদের মতো তিনিও হস্টেল থেকে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন।

- Advertisement -

পল্লবের বাবা প্রদীপ মালো দিনমজুর। কখনও চাষের ক্ষেতে, আবার কখনও লোকের বাড়িতে কাজ করেন। সংসারে সাহায্য করতে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কখনও রাজমিস্ত্রির সহকারী, আবার কখনও চাষের ক্ষেতে কাজ করছেন পল্লব। তাঁর কথায়, বাড়িতে আমি ও বাবা ছাড়াও মা, দিদি ও ঠাকুমা আছে। বাবার একার পক্ষে সকলের খরচ চালানো সম্ভব নয়। তাই আমিও কাজ করছি। কী কাজ করছেন তিনি? বললেন, যখন যা পাওয়া যায়, করছি। রাজমিস্ত্রির সঙ্গে কাজ করেছি। ধান আর পাটও কেটেছি। রাজমিস্ত্রির সহকারীর হিসেবে প্রতিদিন ২০০ টাকা পাওয়া যায়। ক্ষেতে কাজ করলে ২৫০ টাকা দেয়।

সংসারে সাহায্য করতে গিয়ে রোজকার অনুশীলন লাটে উঠেছে। পল্লব বলেন, কাজ না থাকলে সকাল-বিকেল স্থানীয় স্কুলের মাঠে দৌড়াই। তবে কাজ থাকলে অনুশীলনে যাই না। কারণ সকালে উঠে দৌড়ানোর পর কাজ করতে ইচ্ছে করে না। স্থানীয় পঞ্চায়েত বা প্রশাসনের তরফে কোনও সাহায্যও মেলেনি। হতাশ পল্লবের বক্তব্য, জাতীয় ক্যাম্পে সুযোগ পাওয়ার জন্য ২০১৯ সালে খুব পরিশ্রম করেছি। এরপর ২ মাস ক্যাম্পও করেছি। কিন্তু করোনার জন্য সব জলে যাচ্ছে। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ফের পুরোদমে অনুশীলনে মন দিতে পারবেন, উত্তর খুঁজছেন পল্লব।