বেদী ভেঙে বিজেপি নেতা সরিয়ে দিলেন ইন্দিরা ও রাজীবের মূর্তি, উত্তেজনা মন্তেশ্বরে

207

বর্ধমান, ১২ ফেব্রুয়ারিঃ কংগ্রেস দলের হাতধরে রাজনীতিতে হাতে খড়ি হয়েছিল পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর নিবাসী দেবব্রত রায় ওরফে খাদিম রায়ের।পরবর্তী সময়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। কিন্তু, সেখানেও মনিয়ে নিতে পারেননি খাদিম বাবু। এরপর খাদিমবাবু মোদীর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেন। এহেন রাজনীতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল বেদী ভেঙে দেশের প্রাক্তন প্রধানন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি ও রাজীব গান্ধির মূর্তি সরিয়ে দেওয়ার। আর তা নিয়েই বৃহস্পতিবার প্রদিবাদে সরব হলেন মন্তেশ্বরের কংগ্রেস নেতৃত্ব। একইভাবে ঘটনার নিন্দায় মুখর হয়েছেন মন্তেশ্বরের বাসিন্দারাও। যদিও, খাদিম রায় বেদী ভেঙে মূর্তি দু’টি সরিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে, কংগ্রেসের অভিযোগকে তিনি গুরুত্ব দিতে চাননি।পালটা অভিযোগ করে তিনি বলেন, মূর্তি সরানো নিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূল এখন নাটক করছে।

মন্তেশ্বরের কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছেন, কয়েক দশক আগে মন্তেশ্বর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মেমারি – মালডাঙ্গা রাস্তার ধারে পূর্ত দপ্তরের জায়গায় দেশের প্রাক্তণ দুই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি ও রাজীব গান্ধির মর্মর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। একটি বেদী তৈরি করে তার উপর মূর্তি দুটি বসানো হয়েছিল। প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য ও জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি বুলবুল আহমেদ সেখ বলেন, প্রায় দুই দশক আগে জাতীয় কংগ্রেসের তৈরী করা বেদী ভেঙে মূর্তিগুলোর ধ্বংসাবশেষ লরিতে চাপিয়ে নিয়ে গিয়ে আবর্জনার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জেলা বিজেপির সহসভাপতি দেবব্রত রায় ওরফে খাদিম রায় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই কাজ এদিন করিয়েছেন। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেবব্রত রায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে কংগ্রের নেতৃত্ব জানিয়ছেন।

- Advertisement -

যদিও, এই অভিযোগকে অস্বীকার করে জেলা বিজেপির সহসভাপতি দেবব্রত রায় জানান, তিনি যখন কংগ্রেস করতেন, তখন ওই দু’টি মূর্তি তিনিই দায়িত্ব নিয়ে বসিয়েছিলেন। বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা আগামী ১৫ তারিখে শেষ হয়ে যাওয়ার পর পুণরায় তিনি অক্ষত দু’টি মূর্তি পাশাপাশি জায়গায় প্রতিষ্ঠা করে দেবেন। পুণঃপ্রতিষ্ঠার জন্য মূর্তি দু’টি সরিয়েছেন বলে রাজনীতিতে অস্তিত্ব হারানো কংগ্রেস ও তৃণমূলের লোকজন এখন নাটক করছে। খাদিম বাবুর দাবি, রাজ্য কংগ্রেস নেতা জ্যোতিন্ময় মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলে তিনি মূর্তি দু’টি সরানোর কাজ এদিন করিয়েছেন। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার যুক্তিগ্রাহ্য কারণ অবশ্য খাদিম বাবু জানাতে পারেননি।

মন্তেশ্বরের বাসিন্দা লাবু মোল্লা ও অনুপ রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পূর্ত দপ্তরের জায়গায় ইন্দিরা গান্ধি ও রাজীব গান্ধির মূর্তি দু’টি ছিল। তার জন্য কারও কোনও অসুবিধা হয়নি। বিজেপির নেতা বনে যাওয়ার পর হঠাৎ করে এদিন মূর্তি দু’টি সরানোর পেছনে খাদিম রায়ের কোনও দূরভিসন্ধি রয়েছে বলে মন্তেশ্বরের বাসিন্দারা মন্তব্য করেছেন।