ধূপগুড়ি : গতবছর জুলাই মাসে স্টেপলার পিনের চেইন বানিয়ে বিশ্বরেকর্ড করার খবর টিভিতে দেখেই মনে মনে রেকর্ড ভাঙার প্ল্যান করা। আর কিছুদিনের পরিকল্পনা আর প্রাকটিসের পর অবশেষে নিজের হাতে বিশ্বের দীর্ঘতম স্টেপলার পিনের চেইন বানিয়ে ফেলেছে ধূপগুড়ি পুর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়ার বাসিন্দা তাপস রায়। ধূপগুড়ি সুকান্ত মহাবিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়ে পারিবারিক কৃষিকাজে যুক্ত এই যুবক জানান, গতবছর একদিন খবরে দেখেন নদীয়ার শান্তিপুরের অনুপম সরকার নামে এক যুবক ৭১ হাজার ৫০০ টি স্টেপলার পিন দিয়ে ১৮১৯ ফুটের চেইন বানিয়ে নাম তুলেছে গিনেস বুকে। আমেরিকার ম্যাকেঞ্জি মার্টিনের ১১৫৭ ফুট চেইনের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। তাপস সিদ্ধান্ত নেন নতুন রেকর্ড করে গিনেস বুকে নিজের নাম তোলার।

ভাবনাটা যত সহজ ছিল ততটা সহজ ছিলনা শুরু করাটা। তবে শেষ পর্যন্ত সমস্ত বাধা বিপত্তি কাটিয়ে ক্ষতবিক্ষত দুই হাতে আশি হাজারের বেসি স্টেপলার পিন গেথে দুই হাজার ফুটের বেশি লম্বা চেইন বানিয়ে ফেলেছেন তাপস। চেইনের নামকরণ করা হয়েছে তিস্তার নামে।

তাপস বলেন, টিভিতে দেখে শুরুতে যতটা সহজ ভেবেছিলাম করতে গিয়ে বুঝি কাজটা বেশ কঠিন। একটা একটা করে পিন খুলে সেগুলি চুম্বকে আটকে এক জায়গায় রাখতাম। তারপর সেগুলির দুই প্রান্ত হাত দিয়ে মুড়িয়ে একটার সঙ্গে আরেকটা গেঁথে চেইন বানাতাম। প্রথম দিকে কাজ প্রায় এগোতে চাইতো না। তবে মাস খানেক যাওয়ার পর যখন অনেকটা এগিয়ে যায় তখন উৎসাহ বেড়ে যায়। আর পিছনে ফিরে তাকাইনি। আমার পরিশ্রমের ফসল এই চেইনের নাম দিয়েছি তিস্তা। আমাদের উত্তরবঙ্গের এই নদী যেমন এপার ওপার দুই বাংলাকে এক সুতোয় গেঁথেছে তেমনই আমার তৈরি এই চেইনও সকলকে এক করবে।

তাপস জানিয়েছে দীর্ঘতম এই চেইন তৈরির ক্ষেত্রে তাকে সবচাইতে বেশী সমস্যায় পড়তে হয়েছিল দুহাতে পিন ফুটে যাওয়া নিয়ে। রক্তপাত, ব্যথা এবং সর্বোপরি সেপটিক হওয়ার ভয়ে নিয়মিত চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং ইঞ্জেকশন নিতে হয়েছে তাঁকে। বর্তমানে গিনেস বুকে নাম তোলার প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন তিনি।  তাপস বলেন, ‘পুরো কাজটি করে গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্ত নথি এবং চেইনের বিস্তারিত তথ্য পৌঁছতে সরকারি আধিকারিকদের সহায়তা প্রয়োজন। কিন্তু আমি একজন সধারণ কৃষক পরিবারের ছেলে। এই কারণে এই বিষয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা আমার পক্ষে সহজ হবে না। এই কারণে আমি সকলের সাহায্য চাইছি যাতে বিষয়টি দ্রুত গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি।’  তাপসের এই উদ্যোগে তাঁর পাশে দাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা ধূপগুড়ি পুরসভার চেয়ারপার্সন ভারতী বর্মন। তিনি বলেন, ‘আমরা পুরসভার থেকে তাঁর পাশে দাঁড়াব। তাপসের পরিশ্রমের ফল যাতে তিনি পান সেবিষয়ে আমরা উদ্যোগ নেব। তাপসের নাম গিনেস বুকে উঠলে তা ধূপগুড়ির জন্যেও অত্যন্ত গর্বের বিষয় হবে।’

ছবি- স্টেপলার চেইন হাতে তাপস।

ছবি ও তথ্য- সপ্তর্ষি সরকার