নরম পাথরে নতুন জাতীয় সড়ক, কোর এরিয়ায় ক্রাশার বসানোর অভিযোগ

104

অনুপ সাহা, কাফের (লোলেগাঁও) : চিন সীমান্তে ভারতীয় সেনার গতিবিধি আরও মসৃণ করতে ডুয়ার্সের বাগ্রাকোট থেকে নাথুলা পর্যন্ত তৈরি হচ্ছে নতুন ৭১৭এ জাতীয় সড়ক। কিন্তু এই জাতীয় সড়ক তৈরি নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। এর আগে রাস্তা তৈরির জন্য হাজার হাজার গাছ কাটা নিয়ে সরব হয়েছিলেন পরিবেশপ্রেমীরা। এবার জঙ্গলের কোর এরিয়ায় পাথর ভাঙার মেশিন বা ক্রাশার বসানো নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন তাঁরা। এভাবে গাছ ও পাহাড় কাটার ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবেশপ্রেমীদের। এছাড়া যেভাবে ভঙ্গুর পাহাড় কেটে তার পাথর দিয়ে রাস্তা তৈরি হচ্ছে, তা কতদিন টিকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। যদিও কাজের মান নিয়ে কোনও অভিযোগ মানতে নারাজ নির্মাণকারী সংস্থাগুলি।

বাগ্রাকোট থেকে নাথুলা পর্যন্ত জাতীয় সড়ক প্রকল্পের প্রথম ধাপে কালিম্পং জেলার কাফের পর্যন্ত ৪২ কিমি দৈর্ঘ্যের দুলেনের রাস্তা তৈরিতে হাত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ভূতল পরিবহণ মন্ত্রকের অধীন ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এনএইচআইডিসিএল)। নির্মাণকাজের সুবিধার জন্য ৪২ কিমি রাস্তাকে তিনভাগে ভাগ করে আলাদা তিনটি ঠিকাদারি সংস্থাকে কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

২০১৯ সালের নভেম্বরে কাজ শুরুর আগে প্রথমে জমিজট তৈরি হয়। তা কেটে যাওয়ার পর ১৬৬ হেক্টর বনভূমি সড়ক নির্মাণ কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে কালিম্পং বনবিভাগের ডিএফও চিত্রক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন। বর্তমানে অজস্র ভারী মেশিনের দাপটে সড়ক নির্মাণে গতি এসেছে। বাগ্রাকোটের রাজেশ পেরিয়াল সহ চুইখিম, বরবট, নিমবঙ প্রভতি এলাকার বাসিন্দা শম্ভু ছেত্রী, প্রেম তামাং, ভীম রাই প্রমুখের অভিযোগ, পাহাড় কাটার ফলে যে বিপুল পরিমাণ পাথরের টুকরো বেরিয়ে এসেছে, সেগুলিকেই ক্রাশারে ছোট টুকরো ও গুঁড়ো করে রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। নদীর বালি-পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে না। নরম পাথর ও মাটি ব্যবহারের ফলে ১২ মিটার চওড়া এই সড়ক কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। একইসঙ্গে পাহাড়ের গ্রামগুলির মধ্যে দিয়ে সড়ক নির্মাণ হলেও, স্থানীয় শ্রমিকদের কাজ না দিয়ে বাইরে থেকে শ্রমিক আনা হচ্ছে বলে ক্ষোভপ্রকাশ করেন শম্ভু, ভীম, প্রেমরা।

নরম পাথরে নতুন জাতীয় সড়ক, কোর এরিয়ায় ক্রাশার বসানোর অভিযোগ| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaজঙ্গলের ভিতর একাধিক পাথর ক্রাশার তৈরি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট পরিবেশপ্রেমী ও ন্যাফ-এর মুখপাত্র অনিমেষ বসু। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এই জাতীয় সড়কের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু ভূমিকম্পপ্রবণ ও ভঙ্গুর এই পাহাড়জুড়ে হাজার হাজার গাছ কেটে, ক্রাশার চালু করে যেভাবে বন ও বন্যপ্রাণী সহ প্রাকৃতিক পরিবেশের যে ক্ষতি করা হচ্ছে, তা কেন্দ্রীয় সরকার কীভাবে পূরণ করবে, সেটাই দেখার। এভাবে চলতে থাকলে আগামীদিনে এর বিরূপ প্রভাব পরিবেশের ওপর পড়বে বলে আশঙ্কার কথাও শুনিয়েছেন অনিমেষবাবু।

রাস্তা তৈরিতে নরম পাথর ব্যবহার প্রসঙ্গে একটি নির্মাণকারী সংস্থার প্রোজেক্ট ম্যানেজার আরকে সিং বলেন, শর্ত অনুযায়ী রাস্তার কাজ ১৮ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। তার পরের পাঁচ বছর রাস্তা দেখভালের দায়িত্ব আমাদেরই বহন করতে হবে। সুতরাং নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজের প্রশ্নই নেই। সমস্ত নির্মাণসামগ্রীর গুণগতমান যাচাই করেই ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই বক্তব্য জানিয়েছেন আরেকটি নির্মাণকারী সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রোজেক্ট ম্যানেজারও।

বিষয়টি নিয়ে এনএইচআইডিসিএল-এর রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ভিকে বাগেশ বলেন, সড়কের কাজে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। কাজের গুণগতমান নিয়ে কোনও সমঝোতার প্রশ্নই নেই। কাজ শুরুর আগে প্রতিটি নির্মাণকারী সংস্থা প্রয়োজনীয় সমস্ত সরকারি অনুমতি নিয়েছে। তাঁর সংযোজন, গত বর্ষায় মাঝেমধ্যেই ধস এবং কোভিডের জন্য কাজের গতি শ্লথ হলেও বর্তমানে জোরকদমে কাজ এগিয়ে চলেছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ে মধ্যেই নির্মাণ শেষ হবে।