নিয়ম ভেঙে পাথর ভাঙার কারখানা, ধুলো-শব্দে নাজেহাল গ্রামবাসী

67

প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার : পাথর ভাঙার যন্ত্রের বিকট শব্দে রক্ষে নেই, দোসর মাত্রাতিরিক্ত ধুলো। দুইয়ের জেরে জেরবার মাঝেরডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েতের পুঁটিমারি সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। বসতি এলাকার গা ঘেঁষে বেশ কিছু পাথর ভাঙার কারখানা গড়ে ওঠায় সমস্যা বেড়েছে। একটি কারখানায় আবার পাঁচিল নেই। অন্য একটি কারখানায় মাত্র কয়েক ফুট উঁচু দেওয়াল রয়েছে। ফলে পাথর ভাঙা শুরু হলেই এলাকা ধুলোয় ভরে যায়। কানফাটা শব্দে নাজেহাল অবস্থা হয় আট থেকে আশি সকলের। শারীরিক নানা সমস্যাও দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুবার কারখানা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সমস্যাটির সমাধান হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষচন্দ্র মাহাতো বলেন, পাথর ভাঙার মেশিন অনবরত চলে। ধুলো আর শব্দে টেকা দায়। একটিতে পাঁচিলও নেই। অনেক বলার পর কারখানার চারধারে নেট লাগানো হয়েছিল। এখন সেসব ছিঁড়ে গিয়েছে। আরেক বাসিন্দা অনিল বর্মনের কথায়, ধুলো, শব্দের সমস্যা তো রয়েছেই। পাশাপাশি ওই কারখানাগুলি থেকে কুঁচো পাথর নিকাশিনালায় ফেলা হয়। ফলে নালা বুজে নোংরা জল রাস্তায় উপচে পড়ে। বর্ষায় ভোগান্তি আরও বাড়বে।

- Advertisement -

একটি পাথর ভাঙার কারখানার প্ল্যানিং ইনচার্জ শ্যাম দাসের অবশ্য বক্তব্য, কারখানার জমি লিজে নেওয়া হয়েছিল। ফলে আমাদের কারখানায় স্থায়ী পাঁচিল তৈরি সম্ভব নয়। আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি মেনে উঁচু নেটের ব্যবস্থা করেছিলাম। সম্প্রতি ঝড়ে নেটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন করে টিনের ঘেরা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থায়ী কারখানাগুলির পাঁচিলের উচ্চতা কম।

মাঝেরডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েতের মাঝ বরাবর চলে গিয়েছে ৩১সি জাতীয় সড়ক। ওই জাতীয় সড়কের গা ঘেঁষেই রয়েছে বেশ কয়েকটি পাথর ভাঙার কারখানা। কারখানাগুলিতে আধুনিক যন্ত্র বসিয়ে চলে পাথর ভাঙার কাজ। বোল্ডারের আকার বড় হলে শব্দ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ধুলো। গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট জমি আর ধুলো আটকানোর ব্যবস্থা থাকলেই পাথর ভাঙার কারখানার অনুমতি মেলে। জাতীয় সড়কের পাশে গড়ে ওঠা ছোট-বড় কারখানাগুলি পঞ্চায়েতের অনুমতি নিয়ে গড়ে উঠেছে। কিন্তু কোনও কারখানাতেই ধুলো আটকানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তা সত্ত্বেও কীভাবে কারখানাগুলি পঞ্চায়েতের ছাড়পত্র পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মাঝেরডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বুবুন রায় বলেন, সাধারণত ধুলো প্রতিরোধের ব্যবস্থা থাকলে পাথর ভাঙার কারখানা খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা ধুলো বা শব্দের কোনও সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আমরা উপযুক্ত পদক্ষেপ করব। আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের বিডিও চিরঞ্জিত সরকারের বক্তব্য, কারখানা নিয়ে কোনও অভিযোগ পাইনি। তবে পাথর ভাঙার কারখানা গড়লে দূষণ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের অনুমতি প্রয়োজন। কারখানাগুলির সেসব আছে কি না, খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।