করোনা আবহে চড়ছে গেমস-বিরোধী স্বর

টোকিও : আর মাত্র ১০ সপ্তাহ। তারপরই অলিম্পিক শুরু হওয়ার কথা।

কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, জাপানে অলিম্পিক বিরোধী স্বর আরও জোরালো হচ্ছে। এরমধ্যে জাপানের করোনা পরিস্থিতি এই দাবির সমর্থকদের জোর বাড়াচ্ছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, রাজধানী টোকিও সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে মে মাসের বাকি সময়ে জরুরি অবস্থা জারি থাকবে। এই তালিকায় উত্তর হোক্কাইডোর নামও জুড়েছে। এই অঞ্চলেই অলিম্পিকের ম্যারাথন দৌড়ের ইভেন্ট হওয়ার কথা।

- Advertisement -

অলিম্পিকের পরিবর্তে নাগরিকদের জীবনকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবিতে টোকিওর গভর্নরের কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি এবং আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটির কাছেও তার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে। সাড়ে তিন লক্ষেরও বেশি সই রয়েছে তাতে। এই ক্যাম্পেইনের উদ্যোক্তা কেঞ্জি উৎসনোমিয়ার কথায়, আমাদের মানুষের জীবন এবং অলিম্পিকের মধ্যে কোনও একটাকে বেঁছে নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে অলিম্পিক করার অর্থ দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর একটা বড় অংশ সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতে পারবে না। এখন অর্থের পরিবর্তে নাগরিকের প্রাণকে প্রাধান্য দিতে হবে। আয়োজকদের বিড়ম্বনা বাড়িয়ে সেদেশের নামী ব্যবসায়ী মাসায়োশি সন বলেছেন, এই সময়ে অলিম্পিক আয়োজন করা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। শুধু জাপান নয়, বিশ্বের অনেক দেশই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। তারা অ্যাথলিটদের পাঠাতে পারবে কি না জানি না।

তবে জাপানিদের এই প্রতিবাদ স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটির প্রধান অ্যান্ড্রু পার্সন্স। যদিও তাঁর দাবি, সংক্রমণ ঠেকাতে প্রতিদিন কোভিড টেস্ট করানোর পাশাপাশি অ্যাথলিটদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে গেমস থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। করোনার মধ্যে নির্বিঘ্নে অলিম্পিক আয়োজন সম্ভব বলে মনে করেছেন পার্সন্স। এর আগে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের প্রধান সেবাস্তিয়ান কো মন্তব্য করেন, এখনও কোনও বড় খেলাধুলোর আসর থেকে সেভাবে সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনা সামনে আসেনি। আমাদের এখন এগিয়ে যেতে হবে। দর্শকের উপস্থিতিতেই ফুটবল, রাগবি, টেনিস, অ্যাথলেটিকসের বিভিন্ন ইভেন্ট হচ্ছে। এখন পিছিয়ে গিয়ে অলিম্পিক বাতিল করার মানে নেই। যদিও কেঞ্জির হুমকি, অলিম্পিক বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ক্যাম্পেইন চালাবেন।