ঝড়-বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ

85

উত্তরবঙ্গ ব্যুরো: ঝড়-বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আধঘন্টার ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মাথায় হাত পড়েছে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের দেওগাঁও গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার কৃষকদের। ওই এলাকার বিঘার পর বিঘা লঙ্কাখেত ও ভুট্টাখেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পরিষেবা। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর দেওগাঁও ও পূর্ব দেওগাঁওয়েই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে মধ্য দেওগাঁওয়েও বেশ কিছু গাছ উপড়ে পড়েছে। ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির স্থানীয় সদস্যা ছায়া রায় ডাকুয়া শুক্রবার জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা তৈরি করে ব্লক প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে, গতকাল সন্ধ্যায় উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘি ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টির জেরে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম পাল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় দোমোহনা, লাহুতারা, আলতাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি হয়। শিলাবৃষ্টির ফলে ঝরে গিয়েছে আম, লিচুর গুটি, ভেঙে গিয়েছে বহু গাছ। ভুট্টার জমিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। করণদিঘি ব্লকের সহ কৃষি আধিকারিক ধীরেন ছেত্রী জানান, সন্ধ্যায় কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের একাংশে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছে। যদি কারও শস্যবীমা করা থাকে ফসলের ক্ষতি হলে নিশ্চয়ই সেই ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

- Advertisement -

পাশাপাশি বংশিহারি ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রামে গতকাল রাতে ঝড়ে ইলেকট্রিক পোল সহ প্রচুর বাড়ি ক্ষতি হয়েছে। ৫ নম্বর মহাবারি গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর শ্রীরামপুর, পতরা, রুপাহাটা সহ বিরলি পাড়া এলাকার ক্ষতি হয়েছে। বংশিহারি ব্লকের সহ সভাপতি গণেশ প্রসাদ জানান, ক্ষয়খতির খবর পাওয়া গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে মালদার হবিবপুরের বিভিন্ন এলাকা। জানা গিয়েছে, বুলবুলচণ্ডী গ্রাম পঞ্চায়েতের টাঙ্গন নদীর ধারে একটি বরফ মিলের টিনের চাল ঝড়ে উড়ে যায়। ব্লকের পাঁচটি পঞ্চায়েত এলাকায় ঝড়ের দাপটে ভেঙে পড়েছে প্রায় শতাধিক কাঁচা বাড়ি। একাধিক রাস্তার গাছ উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিছিন্ন বহু এলাকায়। শুধু হবিবপুর নয় জেলার বামোনগোলা, রতুয়া সহ বেশ কিছু ব্লকে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিন গোটা জেলা জুড়েই ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। তবে এদিনের ঝড়ে জেলার আম চাষে তেমন ক্ষতি হয়নি। জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের কর্তারা জানান, এদিনের বৃষ্টিপাত আমের জন্য উপকারী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ব্লক প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। হবিবপুরের বিডিও সুপ্রতীক সাহা জানান, গতকাল রাতে ঝড়ে কানতুর্কা, জাজোইল, হবিবপুর কিঞ্চিবাড়ি সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে ব্লক প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝড়ে উত্তর মালদায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চাঁচল-১ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায়। মহানন্দপুর পঞ্চায়েত এলাকার দক্ষিনপাকা, মহানন্দপুর সহ বিভিন্ন গ্রামে ঝড়ের একাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। উপড়ে পড়েছে বহু গাছপালা। ওই এলাকায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ২০ থেকে ২৫টির মতো কাঁচাবাড়ি। চাঁচল-১ বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্য জানান, ব্লকের মহানন্দপুর, ভগবানপুর, মকদমপুর, খরবা পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে কাঁচা বাড়ি, কলা ও ভুট্টা চাষের ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। অনেকেই ইতিমধ্যে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদনও করেছেন। ব্লক কৃষি দপ্তরকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।