পথবাতি অকেজো, ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়কে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

315

শিলিগুড়ি :  প্রায় আড়াই বছর ধরে জাতীয় সড়কের ধারে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে লাগানো ৬০টিরও বেশি পথবাতি অকেজো হয়ে রয়েছে। বিভিন্ন গাড়ি যাওয়ার পাশাপাশি এলাকার বহু বাসিন্দা দিনরাত ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। তাই ৯০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়কে এই পথবাতিগুলি লাগানো হয়েছিল। স্থানীয় একটি বেসরকারি ইংরেজিমাধ্যম স্কুল থেকে শালবাড়ি বাজার পর্যন্ত থাকা পথবাতিগুলির অধিকাংশই বছরের পর বছর বেহাল রয়েছে। এত সরকারি অর্থ খরচ করে পথবাতিগুলি লাগানো হলেও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।  বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার। তিনি বলেন, বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদারের হাতে সবকিছু তুলে দিলে এটাই হয়। অন্য কাজগুলিতেও তো এটাই হয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে লিখিত আকারে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে জানাচ্ছি, যাতে দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

৫৫ নম্বর জাতীয় সড়কের এই অংশের দুপাশ মিলিয়ে হাজারেরও বেশি বাসিন্দা বসবাস করেন। এলাকায় বেশ কিছু চা বাগান থাকায় বহু শ্রমিকেরও ভরসা এই পথ। এই জাতীয় সড়ক দিয়ে সারাদিনেই বহু ছোট-বড় গাড়ি দার্জিলিংয়ে যাতায়াত করে। যদিও সন্ধ্যা নামতেই রাস্তাটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে ওঠে। বাগানের কাজ, শালবাড়ি হাট থেকে ফেরা সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন। তাঁদের অধিকাংশেরই ভরসা সাইকেল। বছর তিনেক আগে ওই বেসরকারি স্কুল থেকে শালবাড়ি বাজার পর্যন্ত পথবাতি দেওয়া হয়। কিন্তু কিছু মাস পরেই অবশ্য সন্ধ্যায় সেই ঘুটঘুটে অন্ধকার ফিরে আসে। এরপর আড়াই বছর পেরিয়ে গিয়েছে। বেশিরভাগ বাতি ওই অবস্থাতেই রয়েছে। এত টাকা ব্যয়ে পথবাতি লাগিয়ে কী লাভ হল, সেই প্রশ্ন করছিলেন শালবাড়ি হাটে আসা অঞ্জনা রায়। তিনি বলেন, হাট থেকে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। আশিঘর থেকে সাইকেল নিয়ে এখানে সামগ্রী নিতে আসি। কিন্তু ফেরার সময়ে প্রাণ হাতে চলে আসে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে যাওয়ায় দুর্ঘটনার মুখে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। অগম সিং গিরি নগরের বাসিন্দা অলোক শর্মা বলেন, অনেক সময় রাস্তায় বেরোতে ভয় লাগে। সড়কের ধার অন্ধকার থাকায় সেখান দিয়ে হাঁটতেও ভয় লাগে। এমনকি রাস্তার কোনও কোনও অংশে অন্ধকারের সুযোগে মদের আসর বসে যায়। এই সমস্যাগুলি সমাধানের জন্যই তো এত লক্ষ টাকা ব্যয়ে পথবাতি লাগানো হয়েছিল। যদিও তার কার্যকারিতা শূন্য। টাকা নষ্ট ছাড়া আর কিছু নয়। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দপ্তরের এক আধিকারিক বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

- Advertisement -