বিল বকেয়া, এশিয়ান হাইওয়েতে জ্বলছে না আলো

431

শিলিগুড়ি : সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে ঢাকছে এশিয়ান হাইওয়ে। নতুন রাস্তা তৈরির সময় ফ্লাইওভার সহ গোটা রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় স্ট্রিট লাইট বসিয়েছিল এশিয়ান হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেগুলি প্রথম দিকে কিছুদিন জ্বলেছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই সন্ধে হলে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে গোটা এলাকা।

বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি জানিয়েছে, বহু টাকা বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকায় এশিয়ান হাইওয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, এশিয়ান হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ বাতিস্তম্ভ বসিয়েছে। কিন্তু সেগুলিতে কীভাবে আলো জ্বলবে, কে এই বিদ্যুতের বিল মেটাবে সেটা ঠিক করেনি। এশিয়ান হাইওয়ে-২এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অন্যান্য জায়গায় স্থানীয় প্রশাসনই বিদ্যুৎ বিল মেটানোর দায়িত্ব নেয়। এখানেও স্বাভাবিকভাবে সেটাই হওয়ার কথা। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, মহকুমার গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভার সহ অন্য জায়গাগুলিতে আলো জ্বলছে না এটা আমি শুনেছি। ভারত সরকারের সঙ্গে সড়ক নির্মাণ সংস্থার কী চুক্তি হয়েছে সেটা দেখতে হবে। আমি কলকাতায় রয়েছি। শিলিগুড়িতে গিয়ে এশিয়ান হাইওয়ে কর্তৃপক্ষকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।

- Advertisement -

খড়িবাড়ি থানার পানিট্যাঙ্কির ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে শুরু হয়ে নকশালবাড়ি, বাগডোগরা, শিবমন্দির, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ, নৌকাঘাট হয়ে ফুলবাড়ির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত গিয়েছে এশিয়ান হাইওয়ে রাস্তা তৈরি হওয়ার সময়ই বিভিন্ন ফ্লাইওভার, সেতুতে পথবাতি এবং বিভিন্ন রাস্তার সংযোগকারী মোড়গুলিতেও হাইমাস্ট আলোকস্তম্ভ বসানো হয়েছিল। সেগুলি পরীক্ষামূলকভাবে এক-দেড় মাস জ্বলেছে। কিন্তু তার পর থেকেই আর আলো জ্বলছে না। বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি জানিয়েছে, লক্ষ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় গোটা শিলিগুড়ি মহকুমাতেই এশিয়ান হাইওয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল না মেটানো হলে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে না।

কিন্তু বিদ্যুৎ বিল কে মেটাবে? শিলিগুড়ির মহকুমা প্রশাসন এবং মহকুমা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন সড়কে বাতিস্তম্ভ বসানো হলেও বিদ্যুৎ খরচের বিল কে বা কারা মেটাবে তা নিয়ে কোনও কথা এশিয়ান হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বলেনি। কোনও বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনাও হয়নি।

তৃণমূল কংগ্রেসের মাটিগাড়া ব্লক সভাপতি সুশান্ত ঘোষ বলেন, নতুন রাস্তা হওয়ার সময় এলাকার মানুষ মনে করেছিলেন পথবাতি লাগানোয় অনেক সুবিধা হবে। গোটা এলাকার অন্ধকার কাটবে। রাস্তা চালু হওয়ার পরে কিছুদিন বাতিগুলি জ্বলেছে। কিন্তু গত প্রায় এক বছর ধরে সমস্ত আলো নিভে রয়েছে। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, বহু লক্ষ টাকা বিল বাকি থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এলাকার মানুষ আমাদের কাছে এব্যাপারে জানতে চাইছেন। আমি পুরো বিষয়টি পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবকে জানিয়েছি।