চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তের ছটপুজোর ঘাটে এবারও থাকছে কড়া নজরদারি

209

গৌতম সরকার, চ্যাংরাবান্ধা: বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের হামলার ঘটনার কথা মাথায় রেখে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তের ছটপুজোর ঘাটে এবারও থাকছে বাড়তি পুলিশ এবং বিএসএফের কড়া নজরদারি। বিএসফের প্রহরার মধ্য দিয়েই সীমান্তের ধরলা নদীতে এবারও ছটপুজোর আনন্দে মেতে উঠবেন সীমান্তবাসী। বুধবার ছটপুজোর ঘাট সংস্কার ও সাজানোর কাজও শুরু করা হল। ইতিমধ্যেই নদীঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছেন সীমান্তের বিএসএফ কর্তারা। কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও। যেহেতু জায়গাটি একেবারে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা। তার উপর এখানে নেই কোনও কাঁটাতারের বেড়া। তাই নিরাপত্তার একটা বিষয় থেকেই যায়। এবারও যাতে প্রসাশনের তরফে নিরাপত্তার দিকটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় সেই দাবির কথা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানিয়েছিলেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘যেহেতু কয়েক বছর আগে এই ছটপুজোর ঘাটে বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের দ্বারা হামলার ঘটনা ঘটেছিল। তারা ভারতীয় পুণ্যার্থীদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়েছিল। ভেঙে নষ্ট করে দিয়েছিল পুজোর বেদী। এরপর থেকে এই এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। তারপর থেকেই সীমান্তের এই ছটপুজোর ঘাটে অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। বিএসফের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, সর্বদাই সীমান্ত এলাকায় তাদের কঠোর সতর্কতা জারি থাকে। ছটপুজোর কথা মাথায় রেখে বাড়তি সতর্কতা থাকছে।’

- Advertisement -

উদ্যোক্তাদের তরফে কানাই রবিদাস বলেন, ‘যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার ছটপুজোর আয়োজনে মেতেছেন সকলে। যেহেতু বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা তাই এবারও ছটপুজোর ঘাটে পুলিশ ও বিএসএফের তরফে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’

প্রতিবছরই অবশ্য পুণ্যার্থীদের ঘাটে পুজো দেবার সময় ঘাটের চতুর্দিকে বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে বাড়তি বিএসএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়ে থাকে। রাখা হয় মহিলা বিএসএফ জওয়ানদেরও। এবারও আঁটোসাঁটো নজরদারি ও নিরাপত্তা বলয় থাকছে।

ঘাট সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের তরফে এবারও রাতে নদীর ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনবার্তাও পৌঁছে দেবেন তাঁরা। তবে এবারও অসমাপ্ত ঘাটেই ছটপুজো করতে হবে পুণ্যার্থীদের। কারণ বিজিবির আপত্তিতে থমকে থাকা স্থায়ী ছটঘাট তৈরির কাজ এখনও অবধি শেষ হয়নি।

বিএসএফের উত্তরবঙ্গের আইজি সুনীল কুমার ত্যাগী অবশ্য জানিয়েছেন, চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তের ছটপুজো ও ছটঘাটটির বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। ওখানেও বিএসএফের কড়া নজরদারি রয়েছে।