কুলিক থেকে কাঠামো তুলতে রাত জাগে কমল, বিনোদরা

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : ফের এক বছরের প্রতীক্ষা। এবারের মতো মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে পাড়ি দিচ্ছেন মা। বঙ্গদেশে তাই এখন বিষাদের ছায়া। তার ওপর করোনা কাঁটায় এবার নিরঞ্জনঘাটে তেমন হইহুল্লোড় নেই। এই বিষাদের মধ্যেই যেন প্রাণ ফিরে পায় কমল-বিনোদরা। কুলিক থেকে প্রতিমার কাঠামো তুলে তা বিক্রির জন্য সারারাত জেগে থাকে ওরা। রায়গঞ্জের বন্দর ও খরমুজাঘাটে কমল-বিনোদদের এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে।

সোমবার বিকেল থেকে রায়গঞ্জ বন্দর ও খরমুজাঘাট শ্মশানে শুরু হয়েছে দেবীর বিসর্জনপর্ব। পুরসভার নিযোজিত ঘাটকর্মীরা পুজো কমিটির কাছ থেকে প্রতিমা বুঝে নেওয়ার পর সেগুলি বিসর্জনের দাযিত্ব নিচ্ছেন। এদিন প্রায় ২০টি প্রতিমা বিসর্জন দেন তাঁরা। খরমুজাঘাট শ্মশানেও একই সঙ্গে চলে বিসর্জনপর্ব। দশমীর রাতে বিসর্জনপর্ব তদারকি করেন রায়গঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস, রায়গঞ্জ থানার আইসি সুরজ থাপা, কাউন্সিলার তপন দাস, অভিজিৎ সাহা, সাধন বর্মন প্রমুখ। এদিকে বিসর্জনপর্ব চলাকালীন পুলিশ ও পুরকর্মীদের সামনেই কখনও কোমর, কখনও গলাজলে নেমে কাঠামোর দখল নিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিনোদ, শ্যামরা। নদী থেকে কাঠামো তুলে আনতেই শুরু হয়ে যায় দর কষাকষি। ভালো দাম পাওয়ায় রাতেই অগ্রিম নিয়ে নেন কেউ কেউ। এই কাঠামোগুলি বিক্রির পর চলে যায় রায়গঞ্জের মৃৎশিল্পীদের ঘরে। এই কাঠামোগুলির ওপরেই তৈরি হবে নতুন প্রতিমা। এরই মধ্যে এগিয়ে আসছে কালীপুজো। ফলে কাঠামোর চাহিদা এখন যথেষ্ট বেশি।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ বন্দর শ্মশানের ইনচার্জ বৈদ্যনাথ ঘোষ জানান, প্রতি বছর প্রতিমা নিরঞ্জনের কিছুদিন বাদে নদী থেকে কাঠামো তুলতে যুবকরা ভিড় করেন। এবছর অনেক আগেই নদীতে কাঠামো তোলার ভিড় শুরু হয়ে গিয়েছে। আমরা বিসর্জনের পর নদীর ঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিয়েছি। কমল, বিনোদরা জানায়, করোনা এবার পরিবারের চাকাটাই প্রায় থামিয়ে দিয়েছে। পরিবারের রোজগার না থাকায় এবার পুজোয় নতুন জামাকাপড় হয়নি। তাই কাঠামো বিক্রি করে বাড়ির লোকদের হাতে কিছু টাকা তুলে দিতে পারব। কিন্তু এবছর প্রতিটি প্রতিমা ছোট হওয়ায় তেমন দাম মিলছে না। স্থানীয় কাউন্সিলার তপন দাস জানান, এলাকার কিছু যুবক, যারা সারা বছর নদীঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে, তারাই বিসর্জনের পর নদী থেকে প্রতিমার কাঠামোগুলি তুলে আনে। তবে কাঠামো দখল নিয়ে কোনও গণ্ডগোল যাতে না হয়, সেজন্য সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।