আদিবাসী ছাত্রের পৌরহিত্যে সরস্বতী পুজো, ভিড় করলেন প্রচুর মানুষ

333

রায়গঞ্জ, ৩০ জানুয়ারিঃ বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী ছাত্র পুরোহিত হয়ে সরস্বতী পুজো করলেন। ভগবত মুর্মূ নামে ওই ছাত্র ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই স্নাতক স্তরের ছাত্র। পুজো শেষে এদিনই রায়গঞ্জ থানার কর্ণজোড়া ফাঁড়ির অন্তর্গত তপশিলি উপজাতি কেন্দ্রীয় ছাত্রাবাসের সহপাঠীরা মিলে আবির মেখে ধামসা-মাদল বাজিয়ে কুলিক নদীতে বাগদেবীর বিসর্জনও দিয়েছেন। ফুল, বেলপাতায় মন্ত্র উচ্চারণ করে ওই ছাত্র পুজো করেছেন। ছাত্রের এই পুজোয় অধ্যাপকদের মন মুগ্ধ হয়ে গিয়েছে। হোস্টেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোন আদিবাসী ছাত্র পুজো করতে পারবে না, এরকম কোনো নিয়ম পুরাণে লেখা নেই। তাই পড়ুয়ারা নিজেদের ইচ্ছেতেই পুজোর আয়োজন করেছেন এবং পুরোহিত নির্বাচন করে পুজো সম্পন্ন করছেন।

সাধারণ কলেজ, স্কুল, হোস্টেলে পুরোহিত দিয়েই পুজো করানো হয়। কিন্তু, পুজোর সময় পুরোহিতদের চাহিদা বেশী থাকায়, দীর্ঘক্ষণ পড়ুয়াদের উপোস করে থাকতে হয়। মূলত, সেই কারণে প্রচলিত প্রথা ভেঙে ছাত্রদের দিয়েই ওই হোষ্টেলে পুজোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে, এবার থেকে সংস্কৃত বিষয়ের পড়ুয়াদের দিয়ে পুজো করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিগত দিনে ভগবত রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত অধ্যাপকের কাছ থেকে সরস্বতী বন্দনার মন্ত্র অনুশীলন করছিলেন। কলা বিভাগের ছাত্র ভগবত মুর্মূর অন্যতম বিষয় সংস্কৃত। এতে তাঁর মন্ত্র অনুশীলন ও পাঠে বাড়তি সুবিধা মিলেছে। ভগবতের জানিয়েছেন, এই প্রথম তিনি সরস্বতী পুজোয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁকে হোস্টেলের পুজোর পুরোহিত হিসেবে মনোনীত করা হলে, তিনি ভীত না হয়ে, নিজেকে পুরোহিত হিসেবে প্রস্তুত করেছেন। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রবিন হেমব্রম, রতন হেমব্রম, মৃত্যুঞ্জয় হাঁজদা জানান, ভগবতের পুজোতে তাঁরা সকলেই খুশি। আগামী বছরও পড়ুয়ারাই পুজো করবেন।

- Advertisement -

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতের অধ্যাপক জানিয়েছেন, তাঁদের পুজোয় ব্রাহ্মণদের তেমন কোনো গুরুত্ব নেই। সকল পুজোয় আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীরাই পৌরহিত্য করেন। ছাত্রের পুরোহিত্য দেখতে এদিন অনেকেই হোস্টেল ক্যাম্পাসে ভিড় করেছিলেন। হোস্টেল সুপার তপন কুমার বেসরা জানিয়েছেন, এক দশক ধরে ছাত্ররাই সরস্বতী পুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।