অনলাইনে পড়ার অছিলায় পড়ুয়ারা মজে গেম-ভিডিওতে

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : ক্লাস চলছে অনলাইনে। এই সুযোগে মোবাইল হাতে পেয়ে পড়ুয়ারা ডুব দিচ্ছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট কিংবা বাইক রেসের অ্যাডভেঞ্চারে। বাদ নেই কচিকাঁচারাও। নিজেরাই ডাউনলোড করে নিচ্ছে মাই টকিং অ্যাঞ্জেলা কিংবা মাই টকিং টম-এর মতো গুগল প্লে স্টোরের হাজারো গেম। এমন দৃশ্য এখন শুধু শহরে নয়। পৌঁছে গিয়েছে ডুয়ার্সের গাঁ-গঞ্জ, এমনকি প্রত্যন্ত চা বাগান এলাকাতেও। লকডাউন পর্বে স্কুল পড়ুয়াদের এমন প্রবণতা তৈরি হওয়ায় আশঙ্কিত শিক্ষাবিদরা। উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন মনোবিদরাও। নতুন তৈরি হওয়া ওই মোবাইল আসক্তি যে খুদেদের চোখের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক করছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরাও।

ডুয়ার্সের স্কুল পড়ুয়াদের অনেকেই এখন একসঙ্গে অনলাইন ক্লাসে শামিল হতে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসছে। মোবাইল হাতে সটান হাজির হচ্ছে মাঠে-ময়দানে কিংবা রেলস্টেশনের নিরিবিলি প্রান্তে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে পড়ার নাম করে চলছে অনলাইনে বিনোদনে ভেসে যাওয়া। এই তালিকায় প্রত্যেকেই যে সচ্ছল পরিবারের তা নয়। চা শ্রমিক থেকে সবজি ব্যবসায়ী কিংবা দিনমজুরের ছেলেদেরও এখন দেখা যাচ্ছে স্মার্ট ফোনে বিনোদনে বুঁদ হয়ে থাকতে। বর্তমানে বহু স্কুলই অভিভাবকদের মোবাইল নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছে। সেখানেই চলছে ক্লাস। কখনও ভয়েস রেকর্ডিংয়ের ক্লিপিংস কিংবা কখনও ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শিক্ষকরা পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছেন। টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে বিষয়ভিত্তিক টাস্কও।

- Advertisement -

এই সুযোগে পড়ুয়াদের অনেকেই মা-বাবার মোবাইল ফোন হাতে পেয়ে গেম খেলছে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে তিন মাসেই সড়গড় হয়ে উঠেছে। ডুয়ার্সের একটি হিন্দি মাধ্যমের সিংহভাগ ছেলেমেয়ে চা বাগানের প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া। ওই স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের নীচু ক্লাসের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সমস্ত ছাত্রছাত্রীর বাড়িতে স্মার্ট ফোন না থাকলেও উঁচু ক্লাসের অনেক অভিভাবকই অনলাইনে পড়াশোনার জন্য ধারদেনা করে হলেও স্মার্ট ফোন কিনেছেন। সকাল হলেই কাজে বেরিয়ে যাওয়া ওই চা শ্রমিকদের অনেকেই কিন্তু জানতে পারছেন না ক্লাসে নয়, ফোন নিয়ে সন্তানরা মজে রয়েছে অনলাইন গেমে।

নাগরাকাটায় চারটি বাংলা মাধ্যমের হাইস্কুলের পড়ুয়াদের একত্রিত করে চলছে দশম শ্রেণির একটি অনলাইন ক্লাসের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। নাগরাকাটা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক পিনাকী সরকার বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আমরা অত্যন্ত সতর্ক। তবুও কেউ যদি ক্লাসের অছিলায় গেমে ডুবে থাকে তবে তা দেখার দায়িত্ব অভিভাবকদেরই নিতে হবে। নাগরাকাটা হিন্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় সাহা বলেন, এর আগেও মিড-ডে মিল বিতরণের সময় অভিভাবকদের বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ক্লাসের সময়ই যাতে তাঁরা ছেলেমেয়েদের হাতে মোবাইল তুলে দেন। ফের সতর্ক করা হবে।

জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুশান্ত রায় বলেন, একটানা কোনও কিছুই ভালো নয়। মোবাইল দেখাটাও ঠিক তাই। এতে চোখের ওপর চাপ পড়তে বাধ্য। শিশু মনস্তত্ববিদ মোহিত রণবীর বলেন, শুধু পড়াশোনাটাই যেন হয়। নয়তো শিশু মনে মোবাইলের কুপ্রভাব ফেলার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে।